দ্য ওয়াল ব্যুরো : বহুদিন ধরেই তিনি এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। এবার বিশ্বের ধনীতম ১০ জন ব্যক্তির তালিকায় নাম উঠল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ অম্বানীর। এশিয়ার মধ্যে একমাত্র তিনিই ওই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৬৪৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। ব্লুমবার্গ বিলিওনেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী মুকেশ ছাড়িয়ে দিয়েছেন অর্যাকল কর্পোরেশনের ল্যারি এলিসন এবং ফ্রান্সের ধনীতম মহিলা ফ্রানকোইস বেট্টেনকোর্ট মেয়ার্সকে। ধনীতম ১০ জনের তালিকায় মুকেশ স্থান পেয়েছেন ন'নম্বরে।
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ৪২ শতাংশ শেয়ারের মালিক হলেন মুকেশ। সম্প্রতি কোম্পানির ডিজিটাল ইউনিট জিও প্ল্যাটফর্মে বেশ কয়েকজন বিদেশী ধনকুবের বিনিয়োগ করেছেন। সেই সঙ্গে রিলায়েন্সকে ঋণমুক্ত করেছেন মুকেশ। এর ফলেই তাঁর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে।
করোনা অতিমহামারীর মধ্যে গত মার্চে রিলায়েন্সের শেয়ারের দাম কমেছিল। কিন্তু এখন তার দাম বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে আগের দ্বিগুণ।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব ইকনমিক স্টাডিজের চেয়ারপার্সন জয়তী ঘোষ বলেন, লকডাউনের সময় ভারতের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে। কিন্তু মুকেশ অম্বানীর বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষত জিও প্ল্যাটফর্ম এই সময় লাভ করেছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, মুকেশ অম্বানী যেভাবে মন্দার সময়েও আরও ধনী হয়ে উঠেছেন, তা থেকে বোঝা যায়, ভারতীয় সমাজে সম্পদের বন্টনে বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের মোট সম্পদের তিন চতুর্থাংশ রয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের হাতে। নতুন করে যে সম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে, তা জমা হচ্ছে মূলত এক শতাংশ ধনীর হাতে।
মুকেশ অম্বানী বাস করেন মুম্বইয়ে ২৭ তলা এক বাড়িতে। বাড়ির নাম অ্যান্টিলিয়া। তাতে আছে তিনিটি রুফটপ হেলিপ্যাড, ১৬৮ টি গাড়ি পার্ক করার জায়গা, ৫০ সিটের মুভি থিয়েটার, একটি বিশাল বলরুম, ব্যাবিলনের ঝুলন্ত বাগানের ধাঁচে তিনটি হ্যাঙ্গিং গার্ডেন, একটি যোগ স্টুডিও, একটি হেলথ স্পা এবং একটি ফিটনেস সেন্টার।
কয়েকমাস আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় রিলায়েন্সের তেল ও রাসায়নিক বিভাগের শেয়ার বেচতে সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু মাস দু'য়েকের মধ্যে জিও-তে প্রায় ১৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আছে ফেসবুক, জেনারেল আটলান্টিক, সিলভার লেক পার্টনারস, কেকেআর অ্যান্ড কোম্পানি এবং সৌদি আরবের সভারিন ওয়েলথ ফান্ড।