দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেই বিশ্বের ধনীতমদের তালিকায় চার নম্বরে উঠে এসেছেন রিলায়েন্স গ্রুপের কর্ণধার মুকেশ অম্বানী। একটি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তিনি তৈরি করেছেন ফ্যামিলি কাউন্সিল। আগামীদিনে যাতে রিলায়েন্স সাম্রাজ্য যথাযথভাবে চলতে পারে, সেজন্যই তৈরি হয়েছে ওই পরিষদ। অম্বানী পরিবারের প্রত্যেক সদস্যই ওই পরিষদে আছেন। আগামী দিনে তাঁরা যৌথভাবে রিলায়েন্সকে চালাবেন।
একটি সূত্রে জানা যায়, কাউন্সিলে অম্বানী পরিবারের প্রত্যেক সদস্য সমান গুরুত্ব পাবেন। অম্বানী পরিবারের কয়েকজন উপদেষ্টাকেও ওই কাউন্সিলে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। ৮ হাজার কোটি ডলার বা প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার মালিক মুকেশ অম্বানী আগামী বছরের মধ্যেই ঠিক করে ফেলবেন, তাঁর অবর্তমানে রিলায়েন্সের নেতৃত্ব দেবে কারা। সেই লক্ষ্যেই গড়া হয়েছে কাউন্সিল। আগামী দিনে ব্যবসা সংক্রান্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাউন্সিলের সদস্যদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কোনও বিরোধ দেখা দিলে তারও নিষ্পত্তি করবে কাউন্সিল।
রিলায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ধীরুভাই অম্বানীর মৃত্যুর পরে সংস্থার মালিকানা নিয়ে মুকেশের সঙ্গে তাঁর ভাই অনিলের বিরোধ দেখা দেয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, তা থেকে শিক্ষা নিয়েই মুকেশ ফ্যামিলি কাউন্সিল তৈরি করছেন। আগামী দিনে ফের পরিবারের অভ্যন্তরে বিরোধ সৃষ্টি হলে কাউন্সিলের মাধ্যমে তার দ্রুত মীমাংসা করা হবে।
এর আগে একাধিক ব্যবসায়ী পরিবার এমন ফ্যামিলি কাউন্সিল তৈরি করেছে। বিশেষত যে পরিবারগুলি একাধিক ব্যবসার মালিক, তারা এমন কাউন্সিল তৈরি করে। মুকেশ তাদেরই অনুসরণ করেছেন। যতদূর জানা গিয়েছে, মুকেশের তিন ছেলেমেয়ে ইশা, আকাশ ও অনন্ত রিলায়েন্সের প্রধান তিনটি শাখা রিটেল, ডিজিটাল ও এনার্জির শীর্ষে থাকবেন।
এসএনজি অ্যান্ড পার্টনার্স নামে ল ফার্মের কর্তা রাজেশ নারায়ণ গুপ্ত বলেন, ফ্যামিলি কাউন্সিলের মাধ্যমে পরিবারের প্রত্যেক সদস্য মতামত জানাতে পারেন। গণতান্ত্রিক পথে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কোম্পানিকে চালাতে সাহায্য করে কাউন্সিল।
২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে আকাশ ও ইশা জিও ইনফোকম ও রিলায়েন্স রিটেলের বোর্ডে ডায়রেক্টর হিসাবে যোগ দেন। অনন্ত আরও আগেই রিলায়েন্সে যোগ দিয়েছেন।
আগামী দিনে ভারতে ফাইভ জি পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে অন্যান্য কোম্পানিকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিতে পারে রিলায়েন্স জিও। ফাইভ জি পরিষেবা চালুর জন্য রিলায়েন্স ব্যবহার করছে দেশজ প্রযুক্তি। তার ফলে কোম্পানির খরচ ব্যাপক কমে গিয়েছে।