
শেষ আপডেট: 10 February 2023 11:08
১৯২৩ সালের জাতক ১০০ বছরে পা দিলেন এই ২০২৩ সালে। তিনি পদাতিক ছবির পরিচালক মৃণাল সেন (Mrinal Sen), যিনি আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে গেছেন চিরকাল। মৃণাল-ছবি দেখলে দর্শকের এক প্রবল অস্বস্তি হয়। ছবি দেখার পর মনটা যেন ঠিক ভরে ওঠে না, একটা কষ্ট কুরে কুরে খায়, মনের কোণে।
অভাব, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, রাজনীতি, লোডশেডিং, উনুনের ধোঁয়া, ভাড়া বাড়ির বারোয়ারী উঠোন থেকে কলঘর-- সব মিলিয়ে কল্লোলিনী কলকাতার ভিতরের জরাজীর্ণ হাড়পাঁজর মৃণাল সেনের ছবিতে ভেসে উঠেছে বারবার। বাংলা ছবির গল্প বলার প্রচলিত বয়ানকে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলেছেন মৃণাল, আর তাঁর ছবিতে বারবার উঠে এসেছে কলকাতা। কলকাতার ভিতর যে আর একটা কলকাতা আছে সেটা মৃণালের চোখ দিয়েই দর্শকরা দেখতে পান নতুন করে।
শিল্পীর শতবর্ষ এলে তাঁর কিছু ছবি দেখানো হয় কিংবা তাঁর স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু শিল্পীর কাজের সংরক্ষণ ও তাঁর নতুন মূল্যায়ন করা হয় না। অন্তত এই বাংলায় তা একেবারেই হয় না বললেই চলে।

জানতে ইচ্ছে করে, পরিচালক মৃণাল সেনের বাইরে মানুষ মৃণাল সেন কেমন ছিলেন? সেই অন্য মৃণালকেই এবার দর্শকের সামনে আনা হল 'কথাচিত্র'র মৃণাল ক্যালেন্ডারে। মৃণাল সেনের প্রতিটি অদেখা মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন ফটোগ্রাফার সাত্যকি ঘোষ। মৃণাল সেনের ছবির সেট থেকে আউটডোর-- নানা মুডের মৃণাল ধরা দিয়েছেন সাত্যকির ক্যামেরায়। তবে বিশেষত কলকাতার নানা প্রান্তেই মৃণাল সেনের মুহূর্ত ধরেছিলেন সাত্যকি। সঙ্গে রয়েছে মৃণালের অন্দরমহলের অদেখা ছবির ঝকঝকে প্রিন্ট। সেসব সাদা-কালো ছবির সমাহার ক্যালেন্ডারে নিয়ে এলেন কথাচিত্র'র কর্ণধার স্বরাট ভট্টাচার্য।
মৃণাল সেনের শতবর্ষে বারো মাসের মৃণাল ক্যালেন্ডার, সত্যিই এক অভিনব ভাবনা। সাত্যকি ঘোষের তোলা ছবিগুলির দুর্দান্ত কোলাজ এই ক্যালেন্ডার। এটি শুধু ক্যালেন্ডার নয় এর আর্কাইভাল ভ্যালুও অসীম। যাঁর সংগ্রহে থাকবে, তাঁর কাছে থাকবে এক অমূল্য রতন।

সাত্যকি ঘোষ হলেন বিখ্যাত চিত্রগ্রাহক নিমাই ঘোষের সুযোগ্য পুত্র, যিনি সত্যজিৎ রায়ের জীবনের স্থির চিত্রগ্রাহক। সাত্যকির যাত্রা শুরু সত্যজিৎ রায়ের 'ঘরে বাইরে'র সেট থেকে। জ্যোতিষ চক্রবর্তী তাঁর ফটোগ্রাফির গুরু। আর তাঁর কাজের যাত্রা শুরু বাবা নিমাই ঘোষের সহকারী রূপে। তারপর নিজের মেধায় সাত্যকি পৌঁছে গেছেন আন্তর্জাতিক স্তরে। দীর্ঘদিন ধরে মুম্বইয়ে কমার্শিয়াল ফটোগ্রাফি করছেন তিনি। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, অপর্ণা সেন বা ঋতুপর্ণ ঘোষের মতো বরেণ্য পরিচালকদের নানা বিরল মুহূর্ত ধরা পড়েছে সাত্যকির লেন্সে।
কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিতে ফটোগ্রাফারদের নাম ঢাকা পড়ে যায় তারকাদের আলোকে। অথচ তারকা রা উজ্জ্বল হন এই ফটোগ্রাফারদের হাতের জাদুতেই। তাই সাত্যকি ঘোষের মতো এক মননশীল ফটোগ্রাফারকে এবার আরও লাইমলাইটে আনলেন কথাচিত্রর স্বরাট ভট্টাচার্য।

স্বরাট জানালেন, 'আমাদের মূল প্রকাশনা সংস্থা 'অরাবি'। বইমেলাতে তাই আমাদের স্টলের নাম 'অরাবি'। আমার বাবা ছিলেন মডার্ন হাইস্কুলের হেড মাস্টারমশাই অরবিন্দ ভট্টাচার্য, যিনি একজন সাহিত্যিক। আমার কাকা-কাকিমাও বইমেলার প্রথম যুগ থেকে পাবলিশার। বাবা অবসর নেওয়ার পরে 'অরাবি' পাবলিশার্স শুরু করেন। এখনও আমি সেটা নিয়ে চলেছি। সেই সঙ্গে আমি প্রিন্টিং টেকনোলজি ও ফাইন আর্টসে নিয়ে পাশ করেছি। এখন শুরু করেছি ক্যালেন্ডার। সত্যজিৎ রায়ের শতবর্ষে কথাচিত্র থেকে প্রকাশ করি সত্যজিৎ ক্যালেন্ডার। তখন অরোরা ফিল্মস আমাকে খুব সাহায্য করেছিল। সঙ্গে ছিলেন নিমাই ঘোষ। এবার মৃণাল সেনের শতবর্ষে সাত্যকিদার ছবি দিয়ে ক্যালেন্ডার প্রকাশ করলাম বইমেলাতে। তবে শুধু মৃণাল সেন নয়। সাত্যকি ঘোষকেও সামনে রেখে আমাদের এই প্রয়াস।'
সাত্যকি ঘোষ আরও জানালেন, 'খুব অল্প সময়ের মধ্যে স্বরাট আমার ছবির দুর্দান্ত লে আউট করেছে ক্যালেন্ডারে। একটা তো মনের খিদে আছে? সেটাতে আমি তৃপ্ত। অসাধারণ করেছে। আমাকে বলল স্বরাট, সাত্যকিদা তোমার ভিতর অনেক কিছু আছে। যা কাজ করেছো অনেকেই জানে না। তাই মৃণাল শতবর্ষে আমাকে নিয়েই এই ক্যালেন্ডার করেছে। সবাই কিনুন। মৃণাল জ্যাঠু আমার জীবনে এক পথপ্রদর্শক। আমার তোলা ছবি এত দশক পর নতুন করে ফিরে এল সবার সামনে। শোভা পাক সবার অন্দরমহলে।'
কলকাতা বইমেলার অরাবি স্টলে (২১৮ নম্বর) পাওয়া যাচ্ছে মৃণাল ক্যালেন্ডার। বইমেলা শেষে কথাচিত্র ডট কম থেকেও বিক্রি হবে ক্যালেন্ডার। তবে স্টক সীমিত।
টলি শর্টস ফিল্ম কার্নিভালের শুরু নন্দনে, ঘরছাড়া বয়স্ক এবং কচিকাঁচাদের নিয়ে অনন্য উদ্যোগ