দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৯-২০ সালে মধ্যপ্রদেশে মাত্র ৩৩৯৭ জন পুরুষ নির্বীজকরণ করিয়েছেন। সম্প্রতি সে রাজ্যের সরকার এক সার্কুলারে বলেছিল, স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক পুরুষকে নির্বীজকরণ না করাতে পারেন, তবে তাঁদের মাইনে কাটা হবে। কিন্তু তুমুল বিরোধিতার মুখে শুক্রবার সেই সার্কুলার বাতিল করল প্রশাসন। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তুলসী সিলাওয়াত এদিন ঘোষণা করেন, "আমি এইমাত্র ওই সার্কুলার নাকচ করে দিলাম। তাতে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল, তা যথাযথ নয়।"
বিজেপি বলেছিল, ওই সার্কুলার ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। কেন্দ্রে তৎকালীন কংগ্রেস সরকার জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। তখন অনেক পুরুষকে জোর করে নির্বীজকরণ করানো হয়। নিজেপির মুখপাত্র রজনীশ আগরওয়াল বলেন, "জরুরি অবস্থার সময় যারা সঞ্জয় গান্ধীর সঙ্গী ছিল, তারা এরাজ্যে নিজেদের আইন চালাতে চাইছে। পুরুষদের কি জোর করে নির্বীজকরণ করানো হবে? স্বাস্থ্যকর্মীরা হয়রানির মুখে পড়বেন...।" কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মহেন্দ্রনাথ পাণ্ডে বলেন, কাউকে জোর করে নির্বীজকরণ করানো উচিত নয়।
মধ্যপ্রদেশে পুরুষদের নির্বীজকরণের হার গত পাঁচ বছরে দৃশ্যতই কমেছে। ২০১৯-২০ বছরে মাত্র ৩৩৯৭ জন নাসবন্দি করিয়েছেন। তুলনায় বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য মহিলারা অনেক বেশি সংখ্যায় এগিয়ে এসেছেন। চলতি আর্থিক বছরে মধ্যপ্রদেশে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মহিলা বন্ধ্যাত্বকরণ করেছেন।
জাতীয় স্বাস্থ্য সমীক্ষা অনুযায়ী ২০১৫-১৬ বছরে মধ্যপ্রদেশে ৯৯৫৭ জন ভ্যাসেকটমি করিয়েছিলেন। কিন্তু পরের তিন বছরে সেই সংখ্যা ক্রমশ কমে হয়েছে যথাক্রমে ৭২৭০, ৩৭১৯ এবং ২৯২৫। রাজ্যের স্বাস্থ্য মিশনের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রজ্ঞা তিওয়ারি বলেছেন, “জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য পুরুষদের কোনও আগ্রহই দেখা যাচ্ছে না। তাঁরা এগিয়ে আসছেন না। তবে সরকার কিন্তু কাউকে বাধ্য করছে না। সবাইকে বুঝিয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে মাত্র।”