
শেষ আপডেট: 18 February 2024 20:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছিল বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজভবন অভিযান করা হয়েছিল। তারপরই কার্যত সন্দেশখালি ইস্যুতে তৎপর হন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। গত সোমবার সন্দেশখালি গিয়েছিলেন তিনি। রাজ্যপাল সেখানকার মহিলাদের জন্য যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তাকে কুর্নিশ জানিয়ে চিঠি লিখেছেন তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী।
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস সন্দেশখালির পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে জানিয়েছিলেন, এলাকার কোনও মহিলা যদি আশ্রয় চান, তাঁর জন্য রাজভবনের দরজা খোলা থাকবে। এই প্রেক্ষিতেই তাঁর পদক্ষেপকে সম্মান জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন দিব্যেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ''সন্দেশখালির মহিলাদের আশ্রয় দেওয়ার যে পদক্ষেপ আপনি নিয়েছেন, তা অকল্পনীয়। এলাকার মহিলারা নিজেদের বাড়িতে থাকতে ভয় পাচ্ছে, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আর আপনি তাঁদের জন্য এমন পদক্ষেপ নিলেন। এটা সত্যিই কুর্নিশ জানানোর মতো।''
শুধুমাত্র রাজ্যপালের পদক্ষেপকে সম্মান জানিয়েই শান্ত থাকেননি দিব্যেন্দু। তিনি ব্যক্তিগতভাবে রাজভবনে এসে ওই মহিলাদের সাহায্য করতে চেয়েছেন। চিঠিতেই সাংসদ লিখেছেন, এই কাজে তিনি রাজ্যপালের পাশে দাঁড়াতে চান। তিনি অনুমতি দিলে রাজভবনে আশ্রয়, খাবার, নিরাপত্তার জন্য আসা মহিলাদের যে কোনও রকম সাহায্য করতে তিনি প্রস্তুত।
রাজ্যপাল পদক্ষেপ না নিলে রাজভবন চত্বরে লাগাতার ধর্না দেওয়া হবে বলে হঁশিয়ারি দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু রাজ্যপাল নিজের কেরল সফর কাটছাঁট করে দ্রুত সন্দেশখালি যান। এরপর রাজ্যের থেকে রিপোর্টও তলব করেছিলেন তিনি। তবে এখন শুভেন্দুর ভাইয়ের এই চিঠি ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে সন্দেশখালিতে ইডি অফিসারদের উপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যপালকে চিঠি লিখেছিলেন দিব্যেন্দু। আবার গত মাসে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি এবং তাঁর বাবা তথা কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী। বিষয়টি নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহলে চর্চাও হয়েছে। আসলে তৃণমূলে দিব্যেন্দুকে সক্রিয়ভাবে দেখা যায় না। বিজেপির কর্মসূচিতেও তাঁর উপস্থিতি নেই। কিন্তু শিশির অধিকারী এবং দিব্যেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শাসক দলের সম্পর্ক কী, তা সকলের জানা। অনেকের ধারণা, দিব্যেন্দু ভোটের আগেই বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন দল নিয়ে।