
শেষ আপডেট: 24 February 2024 18:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেখে মনে হবে ভোটের লাইন। কিন্তু তা নয়। সন্দেশখালিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে গণবিদ্রোহ জেগে ওঠায় বস্তা বস্তা অভিযোগ জমা পড়ছে রোজ। যেন গোটা গ্রামের ঘরে ঘরে লেখা অবস্থায় এতকাল জমে ছিল অভিযোগপত্রগুলি। কয়েকদিনের মধ্যেই ৭০০-র বেশি অভিযোগ জমা পড়ে গিয়েছে বিডিও অফিসে। রোজ সকালেই দীর্ঘ লাইন পড়ে যাচ্ছে অভিযোগ জমা করতে।
শুধু শেখ শাহজাহান নয়, তাঁর ভাইসহ সাঙ্গোপাঙ্গ, ঘনিষ্ঠ শাগরেদদের বিরুদ্ধে জমি দখল, শারীরিক নির্যাতন, বেগাড় খাটানো, মারধর, মহিলাদের ধর্ষণ-শ্লীলতাহানি কী নেই সেসব অভিযোগে! স্থানীয় মানুষের আন্দোলনের চাপে রাজ্য সরকার মাত্র ৬ দিন আগেই সিদ্ধান্ত নেয় যে, যার যার যা অভিযোগ আছে, সব শোনা হবে। বিডিও অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেয় সরকার।
তার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০০-র বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। যার পরিমাণ উত্তরোত্তর বাড়ছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের হাতে জবরদখল হওয়া কৃষিজমি যা পরবর্তীতে মেছো ভেড়িতে পরিণত করা হয়, সেগুলি ফেরত দেওয়ারও ব্যবস্থা শুরু করেছে রাজ্য। কিন্তু, কৃষকদের প্রশ্ন লোনা জলের জমিতে আর কীভাবে ধানচাষ করা সম্ভব!
সন্দেশখালি ২ ব্লকের ডেভেলপমেন্ট অফিসার অরুণকুমার সামন্ত বলেন, আমরা গত ৬ দিনে ৭০০ অভিযোগপত্র পেয়েছি। যার মধ্যে ১৫০-র বেশি অভিযোগ হচ্ছে জমি সংক্রান্ত। ৭০টির মতো তোলাবাজি, অর্থ আদায় সংক্রান্ত। জমির প্রকৃত মালিকদের চিহ্নিত করে তাঁদের হাতে জমি তুলে দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।
বিডিও অফিসের এই তালিকার সঙ্গে অবশ্য নারী নির্যাতনের অভিযোগের কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ সেই অভিযোগ জমা নিচ্ছে পুলিশ। এলাকার মহিলাদের অনেকেরই অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে শেখ শাহজাহানের শাগরেদ শিবপ্রসাদ হাজরা এবং উত্তম সর্দাররা গভীর রাতে মিটিংয়ের নামে ডেকে তাঁদের শ্লীলতাহানি করত। প্রতিবাদ করলে বাড়ির পুরুষদের উপর অত্যাচার করা হত। মারধর করা হতো।
বিডিও জানান, অনেক অভিযোগেই আছে জোর করে তাঁদের কাছ থেকে জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অনেকে বলেছেন, লিজে নেওয়া হলেও টাকা দেয়নি নেতারা। এছাড়াও সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্প যেমন বয়স্কদের পেনশন, জব কার্ড ইত্যাদি নিয়েও বহু অভিযোগ এসেছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি দেখছে। আর আমরা এদিকে জমি ফেরতের বিষয়টি দেখছি। কোনও অভিযোগ এলেই আমরা পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া শুরু করে দিচ্ছি। যেমন আমাদের অফিসার সেই জমিতে যাচ্ছেন এবং দাবি অনুযায়ী মাপজোক করছেন। তারপর প্রকৃত মালিকের হাতে তা তুলে দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬০টি জমি প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি আধিকারিকের দাবি। তোলাবাজির অভিযোগগুলি আমরা উচ্চস্তরে পাঠিয়ে দিচ্ছি। কারণ কীভাবে টাকা ফেরত দেওয়া হবে, সেটা তারাই ঠিক করবে।
বিডিও অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ৫৬ বছরের মহন্ত সর্দার বলেন, তৃণমূলের লোকরা আমার চার বিঘা জমি কেড়ে নিয়েছে। ওরা টাকা দেবে বললেও তিন বছরে কানাকড়িও দেয়নি। আমি টাকা চাইতে গেলে উত্তম সর্দার আমাকে খুন করার হুমকি দিত।