
শেষ আপডেট: 24 May 2019 02:17
কাঠমান্ডুর হোটেলে মাকালু অভিযাত্রী দলের সঙ্গে দীপঙ্কর ঘোষ[/caption]
শেষমেশ অপেক্ষার প্রহর শেষ। জানা গেল, মৃত্যুই হয়েছে পর্বতারোহী দীপঙ্কর ঘোষের। আজ সকাল সাতটা নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবকল্যাণ দফতরের পর্বতারোহণ শাখার (ওয়েস্ট বেঙ্গল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ফাউন্ডেশন) উপদেষ্টা দেবদাস নন্দী 'দ্য ওয়াল' কে জানান, গত কালই সাত শেরপার উদ্ধারকারী দলটি দীপঙ্কর ঘোষের দেহ উদ্ধার করে ক্যাম্প ফোরের কাছে।
আরও পড়ুন:
উদ্ধারকারী দলটি প্রয়াত দীপঙ্কর বাবুর দেহ নামিয়ে আনছে বেসক্যাম্পে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে আজ বা কাল কাঠমাণ্ডু আনা হবে তাঁর দেহটি।
দীপঙ্কর নিখোঁজ হওযার পর থেকেই খারাপ ছিল মাকালুর আবহাওয়া। কপ্টার পাঠানো সম্ভব হয়নি। অভিযানে ও উদ্ধারে শেরপারা ব্যস্ত থাকায়, তাঁকে উদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত শেরপাও পাঠানো যায়নি। পর্বতারোহণ সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, তাঁদের পক্ষে ২২ তারিখের আগে নতুন উদ্ধারকারী দল পাঠানো সম্ভব নয়। প্রথম কারণ, এ বছর নেপালের শৃঙ্গগুলিতে অভিযানের সংখ্যা সব চেয়ে বেশি। দুর্ঘটনাও ঘটছে অনেক। ফলে দক্ষ শেরপারা সকলেই কোনও না কোনও অভিযানে বা উদ্ধারকাজে ব্যস্ত। এবং দ্বিতীয়ত, আবহাওয়া বেশ খারাপ হয়েছে মাকালু এলাকায়। ২২ তারিখের আগে হয়তো ‘উইন্ডো’ মিলবে না।
[caption id="attachment_107153" align="aligncenter" width="751"]
যাত্রা শুরুর দিন ব্যান্ডেল স্টেশনে[/caption]
আরও পড়ুন: শেরপা নেই, আবহাওয়া খারাপ! উদ্ধারকাজ নিয়ে টানাপড়েন, তুষাররাজ্যেই কি হারিয়ে গেলেন দীপঙ্কর!
শেরপা সূত্রের খবর, ১৬ তারিখ সামিট করার পরে বিধ্বস্ত ছিলেন দীপঙ্কর ও তাঁর সহযাত্রী শেরপা। তাঁর নামার গতিও স্বাভাবিকের চেয়ে খানিকটা ধীর হয়ে গিয়েছিল বলেই জানা গিয়েছে অন্য শেরপাদের মুখে। সেই কারণেই হয়তো ক্যাম্প ফোরে পৌঁছনোর পথে অনেক দেরি করে ফেলেন তাঁরা। এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে আবহাওয়াও খারাপ হওয়ায় এই বিপত্তি ঘটে। আচমকা তুষারধসের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে।
দীপঙ্কর নিখোঁজ হওয়ার পরে, তাঁর পর্বতারোহণ আয়োজক সংস্থা ‘সেভেন সামিটস ট্রেক’ শেষমেশ ২১ মে উদ্ধারকারী কপ্টার পাঠিয়েছিল মাকালুতে নিখোঁজ পর্বতারোহী দীপঙ্কর ঘোষের খোঁজে। কপ্টারটি ক্যাম্প-৪ এর ওপরে সাদা বরফের মধ্যে একটি কালো স্পট দেখতে পায় বলে জানায়।
আরও পড়ুন: মাকালুর নীচে বরফে একটি কালো স্পট দেখেছে কপ্টার, ওখানেই কি পড়ে আছেন দীপঙ্কর!
উদ্ধারকারী দলের অনুমান ছিল , ওই কালো স্পটটিই হয়তো দীপঙ্কর! তাই ২১ মে রাতেই সাত শেরপার একটি অভিজ্ঞ দলকে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এজেন্সির তরফে। কপ্টারের চিহ্নিত এলাকায় পায়ে হেঁটে দীপঙ্কর বাবুকে জীবিত বা তাঁর দেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালায় দলটি। বেসক্যাম্পে থেকে উদ্ধারকার্য পরিচালনা করেন দেবদাস নিজে।
শেষমেশ আজ, শুক্রবার সকালে মাকালুর ক্যাম্প-ফোর এলাকায় কঠিন অভিযান চালিয়ে সাত শেরপার উদ্ধারকারী দলটি উদ্ধার করে বাংলার অন্যতম অভিজ্ঞ পর্বতারোহী, ৫২ বছরের দীপঙ্করের দেহ।