
শেষ আপডেট: 16 January 2021 17:23
কেটু[/caption]
সেটাই হল। সফল হল অসম্ভব। কেটু-র মাথায় উড়ল জয়ের পতাকা। শীতকালেই। আজ, ১৬ জানুয়ারি বিকেলে এল সুসংবাদ। পর্বতারোহণের ইতিহাসে নিঃসন্দেহ এক সোনার মাইলফলক।
এক্সপিডিশন আয়োজক সংস্থা, সেভেন সামিট ট্রেকস সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছে, সফল হয়েছে আরোহণ। গতকাল রাত ১ টার সময় সামিট পুশ শুরু করে আজ, অর্থাৎ ১৬ জানুয়ারি বিকেল পাঁচটায় (স্থানীয় সময়) কেটুর শিখরে একসঙ্গে পৌঁছেছেন তিনটি দলের ১০ নেপালি শেরপা। এঁরা হলেন নির্মল পুর্জা,গ্যালজে শেরপা, মিংমা ডেভিড শেরপা, মিংমা গ্যালজে, সোনা শেরপা, মিংমা তেনজি শেরপা, পেম ছিরি শেরপা, দাওয়া টেম্বা শেরপা, কিলু পেম্বা শেরপা ও দাওয়া তেনজিং শেরপা।
নির্মল পূর্জার টিম থেকে কেটু শৃঙ্গে আরোহণ করেন নির্মল পুর্জা, মিংমা ডেভিড শেরপা, দাওয়া টেম্বা শেরপা, পেম ছিরি শেরপা, গ্যালজে শেরপা। মিংমা গ্যালজের টিম থেকে আরোহণ করেন মিংমা গ্যালজে, দাওয়া তেনজিং শেরপা ও কিলু পেম্বা শেরপা। সেভেন সামিট টিম থেকে আরোহণ করেন সোনা শেরপা।
আরোহণের পক্ষে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন পর্বত ধরা হয় এই কেটু বা গডউইন অস্টিনকেই। তথ্য বলছে, প্রতি চারজন পর্বতারোহীর একজন মারা যান এই পর্বতটি আরোহণ করতে গিয়ে। তাই কেটু-কে পর্বতারোহীরা চেনেন 'স্যাভেজ মাউন্টেন' নামেও। সেখানেই ইতিহাস গড়তে নেপাল থেকে টিম নিয়ে এসেছিলেন নির্মল পুর্জা। কেটু তাঁর চেনা। ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই তিনি কেটু আরোহণ করেছিলেন। এবার সামিটের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন দলের অন্যতম সফল সদস্য নির্মল পুর্জাও। নীচে দেওয়া হল সেই ট্যুইট।
https://twitter.com/nimsdai/status/1350424571632111618?s=20
শীতকালে এভারেস্টে প্রথম আরোহণ সম্ভব হয়েছিল ১৯৮০ সালে। ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ তারিখে এভারেস্ট আরোহণ করেছিলেন পোল্যান্ডের দুই আরোহী লেসজেক সিচই ও ক্রিসচভ উয়েলিস্কি। শীতকালে কাঞ্চনজঙ্ঘার শিখরে প্রথম পা দিয়েছিলেন পোলান্ডেরই দুই আরোহী জার্জি কুকোজকা ও ক্রিস্টফ উয়েলিস্কি। ১৯৮৬ সালের ১১ জানুয়ারি তাঁরা আরোহণ করেছিলেন কাঞ্চনজঙ্ঘা।
পৃথিবী দেখেছে আরও অনেক দুঃসাহসী পর্বতারোহণ। ১৯৫৪ সালের ৩১ জুলাই ইতালির কম্প্যাগনোনি ও ল্যাসেডেলি কেটু-র শিখরে প্রথম আরোহণ করেছিলেন। কিন্তু সে ছিল গ্রীষ্মকালীন অভিযান। শীতকালে কেউই এপর্যন্ত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ কেটু আরোহণ করতে পারেননি। তাই এটাই পর্বতারোহীদের কাছে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। এই বছর শীতকালে চারটে দল, জনা চল্লিশ শেরপা ও প্রায় ৬০ জন আরোহীকে নিয়ে কেটু আরোহণ করার জন্য কেটু বেসক্যাম্পে হাজির হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক এই শীতকালীন অভিযানের দলনেতা ছাং দাওয়া জানিয়েছেন, তিনটি টিমের ১০ জন নেপালি পর্বতারোহী রাত একটা নাগাদ শৃঙ্গের দিকে দলবদ্ধভাবে এগিয়ে যান। ঠিক হয়েছিল সবাই সবার জন্য শৃঙ্গের ঠিক তিরিশ ফুট নীচে একটি জায়গায় অপেক্ষা করবেন। ১০ জন একজায়গায় এসে গেলে একসঙ্গে তাঁরা শৃঙ্গে আরোহণ করবেন। ১৬ জানুয়ারি, ২০২১। বিকেল পাঁচটার সময় এসেছিল সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। শীতকালে এই প্রথমবার মানুষের অদম্য জেদের কাছে হার মেনেছিল অনমনীয় কেটু।
দশ নেপালি দামাল পর্বতারোহীর প্রাণ বাজি রাখা লড়াই, লিখেছিল অকল্পনীয় এক ইতিহাস।