
মাউন্ট এলব্রুসের চুড়োয় শুভম।
শেষ আপডেট: 15 July 2024 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এলব্রুসে দেশের পতাকা উড়িয়ে বাড়ি ফিরলেন উত্তরপাড়ার পর্বতারোহী শুভম চট্টোপাধ্যায়। এই শৃঙ্গের দুর্গম উত্তর দিক থেকে আরোহণ করা এবং অবতরণ করা আরোহী হিসেবে তিনিই প্রথম ভারতীয় বলে জানা গেছে। মাত্র ২৮ বছর বয়সে এই শৃঙ্গে আরোহণ করা প্রথম বাঙালিও তিনি।
১ জুলাই রাশিয়ার ককেশাস পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, আগ্নেয় পর্বত মাউন্ট এলব্রুস অভিযানে রওনা দিয়েছিলেন শুভম চট্টোপাধ্যায় ওরফে রনি। ৯ দিনের কঠিন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেন ৫৬৪২ মিটার উচ্চতায় পর্বত শৃঙ্গ। তুষার ঝড় থেকে শুরু করে গভীর ক্রিভাস (বরফের ফাটল)-এমন নানা বাধাই এসেছে আরোহণের সময়ে। শেষমেশ সে সব পার করে ৯ জুলাই পাহাড়ের শিখরে তেরঙ্গা উড়িয়েছেন রনি।
এদিন রনি বলেন, তাঁর কাছে মাউন্ট এলব্রুস একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তিনি সফল হয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি এই দুর্গম পর্বত শৃঙ্গের উত্তর দিক দিয়ে আরোহণ করে আবার উত্তর দিক থেকেই নীচে নেমেছেন। এর আগে অন্য একজন ভারতীয় এই উত্তর দিক থেকে আরোহণ করলেও, অবতরণ করেছিলেন দক্ষিণ দিক দিয়ে।
তাই বলা চলে শুভমই প্রথম বাঙালি, যিনি ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সবথেকে দুর্গম পথে ছুঁয়ে এসেছেন। রনির কথায়, আরোহণের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, ভাষার সমস্যা। তাঁর সঙ্গে থাকা গাইড-শেরপা সকলেই ছিলেন রাশিয়ান, ফলে তাঁদের সঙ্গে ভাব বিনিময় করাই মুশকিল ছিল। এছাড়া ক্রিভাস, অ্যাভালাঞ্চের মতো পাহাড়ি চ্যালেঞ্জ তো ছিলই। ভয় ছিল তুষারঝড়ে আঙুলে ফ্রস্ট বাইট হয়ে যাওয়ারও।
তবে সেসবের কোনও কিছুই পরোয়া না করে, বাড়ি ফিরেই আবারও নতুন অভিযানের ভাবনা শুরু করেছেন রনি। এবার তাঁর লক্ষ্য, ওশিয়ানিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কার্সটেন্স পিরামিডে পৌঁছনো। সেই প্রস্তুতি ও শুরু হয়ে গেছে বাড়ি ফেরার পর থেকেই।
রনির স্বপ্ন, সবথেকে কম সময়ের মধ্যে পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ও সাতটি সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি আরোহণ করা। এর আগে আফ্রিকার সর্বোচ্চ শিখর কিলিমাঞ্জারো অভিযান সফল হয়েছে তাঁর। এবার হয়ে গেল এলব্রুসও। আগামীতে বাকি আরও অনেক শৃঙ্গ, সেই লক্ষ্যেই চলছে জোরদার অনুশীলন।