কোলের ছেলে ভর্তি দিল্লির হাসপাতালে, লেহ থেকে রোজ বুকের দুধ পাঠান মা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জটিল রোগ সন্তানের। চিকিৎসার জন্য কাছ ছাড়া করতে বাধ্য হয়েছেন মা। একরত্তিকে বুকে আঁকড়ে ধরতে না পারলেও নিয়ম করে প্রতিদিন বুকের দুধ পাঠিয়ে দেন। হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লেহ থেকে সেই দুধ এসে পৌঁছয় দিল্লিতে। মায়ের শরীরের গ
শেষ আপডেট: 20 July 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জটিল রোগ সন্তানের। চিকিৎসার জন্য কাছ ছাড়া করতে বাধ্য হয়েছেন মা। একরত্তিকে বুকে আঁকড়ে ধরতে না পারলেও নিয়ম করে প্রতিদিন বুকের দুধ পাঠিয়ে দেন। হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লেহ থেকে সেই দুধ এসে পৌঁছয় দিল্লিতে। মায়ের শরীরের গন্ধ না পেলেও বোতলবন্দি দুধেই রোগ সারিয়ে ধীরে ধীরে সেরে উঠছে ৩৫ দিনের শিশু।
দিল্লির শালিমার বাগের ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে দিনকয়েক আগেই অস্ত্রোপচার হয়েছে শিশুটির। জন্ম থেকেই তার খাদ্যনালী এবং শ্বাসনালী জুড়ে ছিল। সদ্যোজাতকে বুকের দুধ খাওয়াতে গিয়ে লেহ-র বাসিন্দা ৩০ বছরের দোরজে পালমো বোঝেন, কিছু একটা শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাঁর সন্তানের। সে ঠিকমতো স্তন্যপান করতে পারে না। দুধ মুখ বা নাক দিয়ে বেরিয়ে আসে। হজমেও গণ্ডগোল হয়। সেখানকারই এক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানোর পরে তিনি জানান শিশুটির ইসোফেগাস অর্থাৎ খাদ্যনালী এবং শ্বাসনালী একসঙ্গে জুড়ে রয়েছে। যার ফলে দুধ পাকস্থলী অবধি পৌঁছচ্ছে না। বুকের দুধ খাওয়ার সময়, শ্বাসনালীর মধ্যেও দুধ ঢুকে যাচ্ছে। অস্ত্রোপচার না করলে জটিলতা আরও বাড়বে।
লেহ-র হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচারের সুবিধা না থাকায় শিশুটিকে নিয়ে দিল্লি উড়ে আসেন তাঁর কাকা। শালিমার বাগের ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় শিশুটিকে। সেই সময় বাচ্চাটির শরীরও ছিল দুর্বল। কিছুদিনের মধ্যে শিশুটির বাবা জিকমেট ওয়াংড়ুও চলে আসেন দিল্লি। তিনি পেশায় শিক্ষক। মাইসোরে কর্মরত।
“৩৫ দিনের শিশু মায়ের দুধেই পুষ্টি পায়। গুঁড়ো দুধের ব্যবস্থা করলেও ডাক্তাররা বলেছিলেন মায়ের দুধ ছাড়া শরীর তাড়াতাড়ি সারবে না। তাই লেহ থেকে প্রতিদিন আমার স্ত্রী বুকের দুধ পাঠিয়ে দেন,” বলেছেন শিশুটির বাবা জিকমেট। কোনওরকম পরিবহণ খরচ না নিয়েই প্রতিদিন লেহ থেকে দিল্লিতে মায়ের দুধ বাচ্চাটির বাবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে এয়ারলাইন্স।

ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ডাক্তাররা বলেছেন, গত ১৯ জুন অস্ত্রোপচার করে শিশুটির শ্বাসনালী তার খাদ্যনালীর থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। শিশুটিও সেরে উঠছে একটু একটু করে। ম্যাক্স হাসপাতালের প্রিন্সিপাল কনসালট্যান্ট ডক্টর হর্ষবর্ধন বলেছেন, বিশেষ কন্টেনারে এই দুধ আসে লেহ থেকে দিল্লিতে। থার্মোকল ও রেক্সিনের তৈরি ৬০ মিলিলিটারের ৬টি বোতলে দুধ ভরে পাঠিয়ে দেন মা। আবার খালি বোতল ফিরে যায় লেহতে। নিয়ম করে শিশুটির জন্য এই ব্যবস্থা করেছে এয়ারলাইন্স।
ডাক্তার জানিয়েছেন, খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী জুড়ে যাওয়ার এই রোগ বিরল নয়। এমন জন্মকালীন জটিলতা অনেক শিশুরই থাকে। সঠিক অস্ত্রোপচারে সারিয়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেছেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা এখন অনেক স্থিতিশীল। মায়ের দুধ পেয়ে আরও তাড়াতাড়ি সেরে উঠেছে সে। কিছুদিনের মধ্যেই তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।