
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 24 February 2025 22:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পানাগড়ে গাড়ি দুর্ঘটনায় (Panagarh Accident Case) তরুণীর (Sutandra Chatterjee) মৃত্যুর নেপথ্যে ইভটিজিং-এর কোনও ঘটনা নেই। বরং রেষারেষির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে সাংবাদিক বৈঠক থেকে দাবি করেছেন আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী।
যা শুনে গত বছরের ৯ অগস্টে আরজি করের ঘটনা মনে পড়ছে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যালে ধর্ষণ খুনের শিকার হওয়া ডাক্তারি ছাত্রীর মায়ের। সূত্রের খবর, এদিন সন্ধেয় টেলিফোনে নিহত তরুণী সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
চন্দননগরের নাড়ুয়া রায়পাড়ায় থাকতেন সুতন্দ্রা। ৯ মাস আগে তাঁর বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মা-ঠাকুমার সঙ্গে থাকতেন তিনি। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজের সঙ্গে যুক্ত সুতন্দ্রা রবিবার রাতে বিহারের গয়ায় যাচ্ছিলেন।
অভিযোগ, মধ্যরাতে পানাগড়ের জাতীয় সড়কের পাশে কাঁকসা থানা এলাকার একটি এলাকায় তাঁদের গাড়ি ধাওয়া করে কয়েকজন মদ্যপ যুবক। শুধু ধাওয়া করা নয়, সুতন্দ্রাকে লক্ষ্য করে লাগাতার নোংরা অঙ্গভঙ্গি, কটূক্তি করা তো বটেই, দু'-দুবার গাড়িতে ধাক্কাও মারে তারা। মদ্যপ যুবকদের হাত থেকে বাঁচতে গাড়ি অন্য রাস্তায় নিয়ে যান চালক। সেই সময়েই গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে। সুতন্দ্রার অন্য সহকর্মীরাও একই অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ কার্যত ঠিক উল্টো দাবি করেছে।
তারপরই সুতন্দ্রার মাকে ফোন করেন আরজি করের নির্যাতিতার মা। কী কথা হল দুজনের মধ্যে?
সূত্রের খবর, আরজি করে নির্যাতিতার মা সুতন্দ্রার মাকে বলেছেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে তিনি যেন লড়াই চালিয়ে যান। মনে করিয়ে দেন যে তাঁর মেয়ের ক্ষেত্রেও প্রথমে হাসপাতালের তরফে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে চালানো হয়েছিল। তাঁর পাশে থাকার ভরসাও দিয়েছেন আরজি করের নির্যাতিতার মা।
সূত্রের দাবি, কয়েক মিনিটের কথাবার্তায় তিনি সুতন্দ্রার মাকে বলেন, অনেক ধরনের চাপ আসবে। তবে মেয়ের বিচার পেতে নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হবে। মেয়ের বিচারের দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গিয়ে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবীর সঙ্গে তাঁরা যে দেখা করবেন, সেকথাও সুতন্দ্রার মাকে জানান।
আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী বলেছেন, মৃত তরুণীর গাড়ির সঙ্গে অন্য গাড়ির রেষারেষি হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণেই এই ঘটনা। তবে কটূক্তি করা বা ইউটিজিং-এর কোনও অভিযোগ তাঁদের কাছে নেই। মৃতার সহকর্মীদের বয়ানের ভিত্তিতেই মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে স্পষ্ট দাবি, কটূক্তির কোনও অভিযোগ নেই। এই নিয়ে সমাজমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে ভুল খবর, বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করা করেছে পুলিশ।
পরে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুতন্দ্রার মাও দাবি করেন, অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে।