দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিশুদের কোভিড সংক্রমণের ভয় কতটা, এতদিন বিজ্ঞানীদের চিন্তার বিষয় ছিল এটাই। গবেষকরা বলেছিলেন, ষাটোর্ধ্ব প্রবীণরাই শুধু হাই-রিস্ক গ্রুপে নেই, শিশু ও কমবয়সীদের সংক্রমণের ঝুঁকিও কম নয়। এখন শিশুদের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ কতটা ছড়াতে পারে, তার জন্য কী কী উপসর্গ দেখা দিতে পারে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি কতটা সেই নিয়ে ‘দ্য ল্যানসেট চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ’ মেডিক্যাল জার্নালের সাম্প্রতিক রিপোর্ট কিছুটা হলেও আশার কথা শুনিয়েছে। ল্যানসেটের রিপোর্ট বলছে, শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার অনেক কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃদু সংক্রমণ তথা মাইল্ড সিম্পটম্প দেখা গেছে। মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেক কম।
ব্রিটেন এবং স্পেন, অস্ট্রিয়া-সহ ইউরোপের ২৫টি দেশে শিশু ও কম বয়সী কোভিড পজিটিভ রোগীদের নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়েছে। ৩ বছর থেকে ১৮ বছর বয়সী ৫৮২ জন রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। ১ থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে এই গবেষণা চালানো হয়। আজ সেই গবেষণার রিপোর্ট নিজেদের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডে পোস্ট করেছে ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল।
https://twitter.com/LancetChildAdol/status/1276282271197257731
শিশুদের কোভিড সংক্রমণ মৃদু, মৃত্যুর ঝুঁকিও কম
ল্যানসেটের রিপোর্ট বলছে, শিশু ও কম বয়সী মিলিয়ে ৫৮২ জন কোভিড পজিটিভ রোগীর মধ্যে ৬২% কে ভর্তি করতে হয়েছিল হাসপাতালে। তাদের মধ্যে মাত্র ৮% রোগীকে ইনটেনসিভ কেয়ারে দিতে হয়। মৃত্যুহার ছিল ০.৬৯%। বেশিরভাগ শিশুরই জ্বর, সর্দি, শুকনো কাশির মতো উপসর্গ ধরা পড়েছিল। খুব কমজনের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ধরা পড়ে। ২৫% শিশুরই কোনও জটিল রোগ ধরা পড়েনি।
সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, ভাইরাস সংক্রমণে ৩৭৯ জন শিশুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়েছিল, সামান্য জ্বর দেখা গিয়েছিল। কোনও শ্বাসের সমস্যা হয়নি। বাকিদের শ্বাসের সমস্যা দেখা গেলেও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ১২৮ জনের মধ্যে খাদ্যনালীর সংক্রমণ ধরা পড়ে। ৯২ জনের কোনও উপসর্গ দেখা যায়নি অর্থাৎ তারা ছিল অ্যাসিম্পটোমেটিক এবং সংক্রমণও ছিল মৃদু।
কোভিড সংক্রমণের কারণে তীব্র শ্বাসকষ্ট বা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম সবচেয়ে বড় সমস্যা। এর কারণে রোগীদের মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরের সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন হয়। ল্যানসেটের সমীক্ষা বলছে, ৮৭% শিশুর ক্ষেত্রে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। শ্বাসের সমস্যা হলেও সেটা কিছুদিনের মধ্যেই সেরে যায়। মাত্র ২৫ জনকে কৃত্রিম অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল।
আগের গবেষণায় কী বলা হয়েছিল, এখন ল্যানসেট কী বলছে
ইউরোপ ও আমেরিকার নানা জায়গায় কোভিড পজিটিভ ৩৪৫টি শিশুর উপর সমীক্ষা চালিয়ে গত মাসেই একটি গবেষণার রিপোর্টে বলা হয়েছিল ২৩% শিশুই ফুসফুসের সংক্রমণ, হাঁপানি, কার্ডিওভাস্কুলার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর, পেটে ব্যথা, পেট খারাপের মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। পরে তীব্র শ্বাসকষ্ট, ঝিমুনি, ত্বকের রঙে বদল এমনকি হাতে-পায়ে জ্বালাপোড়া ক্ষত, লালচে র্যাশও দেখা গেছে অনেকের শরীরে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কাওয়াসাকির সম্ভাবনাও দেখা গেছে। তবে ল্যানসেটের সাম্প্রতিক রিপোর্টে ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের গবেষক মার্ক টেবরুয়েজ বলেছেন, শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়লেও তা জটিল রোগের আকার নিচ্ছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়েনি। মৃত্যুর হারও অনেক কম। স্পেন ইউনিভার্সিটির বেগোনা সানটিয়াগো-গার্সিয়ার কথায়, এই খোঁজ আগামীদিনে কোভিড চিকিৎসায় বিশেষভাবে কাজে আসবে।