দ্য ওয়াল ব্যুরো : সিবিআইয়ের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান এম নাগেশ্বর রাওয়ের নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে পিটিশন করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তিন দিন বাদেই নাগেশ্বরের বদলে স্থায়ী সিবিআই প্রধান নিয়োগের জন্য বৈঠকে বসবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বিশেষ কমিটি। এরই মধ্যে সোমবার ২০ জন অফিসারকে বদলি করলেন নাগেশ্বর। তাঁদের মধ্যে একজন পলাতক মণিরত্নের ব্যবসায়ী নীরব মোদী ও মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে তদন্ত করছিলেন।
ওই অফিসারের নাম এস কে নায়ার। তাঁকে মুম্বইয়ের অ্যান্টি করাপশান ব্যুরোতে বদলি করা হয়েছে। সিবিআইতে তাঁর জায়গায় এসেছেন এ সর্বানন নামে এক অফিসার। তিনি চেন্নাইয়ের পুলিশ সুপার ছিলেন। তুতিকোরিনে স্টারলাইট নিয়ে বিক্ষোভ ও পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় তিনি তদন্ত করছিলেন।
বিবেক প্রিয়দর্শী নামে এক সিবিআই অফিসার টু জি স্পেকট্রাম কেলেংকারিতে তদন্ত করছিলেন। তাঁকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সিবিআইয়ের নির্দেশে বলা হয়েছে, যে অফিসাররা সাংবিধানিক আদালতের নির্দেশে কোনও তদন্ত করছিলেন অথবা তদন্তে সাহায্য করছিলেন, তাঁদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
গত ২৩ অক্টোবর মাঝরাতে নাগেশ্বর রাওকে সিবিআইয়ের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান করা হয়। তার আগে সিবিআইয়ের ডিরেক্টর অলোক বর্মা এবং স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। দু’জনে পরস্পরের বিরুদ্ধে ঘুষ খাওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন। সরকার তখন দু’জনকেই বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায়।
সিবিআইয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পরে অক্টোবরেই নাগেশ্বর রাও ১৩ জন অফিসারকে বদলি করে দেন। তাঁরা প্রত্যেকে অলোক বর্মার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কয়েকজন তদন্ত করছিলেন রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে। তাঁদের অন্যতম অজয় বাসসি। তাঁকে পোর্ট ব্লেয়ারে বদলি করা হয়েছিল। আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্তকারী অপর অফিসার এস এস গামকে বদলি করা হয় জব্বলপুরে। এমনকী জয়েন্ট ডিরেক্টর এ সাই মনোহরকেও বদলি করে দেওয়া হয়েছিল।
এই বদলি নিয়ে বিতর্ক তোলেন বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য ছিল, অলোক বর্মা রাফায়েল কেলেংকারিতে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছিলেন। সেজন্যই তাঁকে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অফিসারদের বদলি করে দেওয়া হয়েছে।
জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অলোক বর্মা ফের আগের পদে ফিরে আসেন। তখন তিনি আগের সব বদলি বাতিল করে দেন। ঘনিষ্ঠ অফিসারদের ফিরিয়ে আনেন আগের জায়গায়। সেই সঙ্গে অপর কয়েকজন অফিসারকে বদলিও করে দেন। কয়েকদিনের মধ্যে নাগেশ্বর রাও ফিরে এসে অলোক বর্মার আদেশ বাতিল করে দেন।