দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিম নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ডিম খাওয়া ভালো কি না, ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে খাওয়া উচিত কি না, সপ্তাহে কটা ডিম খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে-- এ নিয়ে গবেষণারও শেষ নেই। মাঝে শোনা গেছিল, চল্লিশ পেরোলেও রোজ একটা ডিম খওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই আনন্দে জল ঢেলে দিয়েছে ফের সাম্প্রতিকতম একটি গবেষণা। সেই গবেষণায় বলা হয়েছে সপ্তাহে তিনটে বা তার বেশি ডিম খেলে ঘোর বিপদ! সপ্তাহে তিনটের বেশি ডিম খেলে হৃদরোগের আশঙ্কা তো বাড়বেই, পরকালে যাওয়ার দিনও ঘনিয়ে আসবে দ্রুত।
মেডিক্যাল জার্নাল ‘জামা’তে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রতিটি বড় সাইজ়ের ডিমে ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। ফলে যাঁরা সপ্তাহে তিনটি বা তার বেশি ডিম খান, তাঁদের শরীরে ৩০০ মিলিগ্রামেরও বেশি কোলেস্টেরল প্রবেশ করছে। ফলে হার্টের রোগ তো বটেই, মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যাচ্ছেন তাঁরা।
আমেরিকায় গত সাড়ে ১৭ বছর ধরে ২৯ হাজার মানুষের উপর এই গবেষণা করা হয়েছে। ছ’টি আলাদা গ্রুপের থেকে প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যান নেওয়া হয়েছে। যাঁরা প্রতি সপ্তাহে তিনশো মিলিগ্রাম অতিরিক্ত কোলেস্টেরল শরীরে ঢোকাচ্ছেন, তাঁদের হার্টের রোগ ও অকালে মৃত্যু বেশি হচ্ছে। মুখ্য গবেষক ভিক্টর ঝং ও তাঁর টিমের সদস্যদের বক্তব্য, বেশি ডিম খাওয়া ও হার্টের রোগ বা অকাল মৃত্যুর মধ্যে সম্পর্কটা পরিষ্কার, তবে তার হার মারাত্মক বেশি এ কথা বলা যায় না। তবে সামগ্রিক ভাবে জনসংখ্যার নিরিখে এই হারকে খুব কমও বলা যায় না। ডিম তো বটেই, কোলেস্টেরলের আধিক্য আছে এমন যে কোনও খাবার কম খাওয়া উচিত। ডিম সংক্রান্ত এই গবেষণার পরে খাদ্য-নির্দেশিকা তৈরি করা উচিত বলে মনে করেন মার্কিন গবেষকেরা।
তবে ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান ভিক্টোরিয়া টেলরের মতে, ডিম ও হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে আরও গবেষণা হওয়া উচিত। তাঁর মতে, ডিম একটি অতি পুষ্টিকর খাদ্য। কী ভাবে ডিম রান্না করা হচ্ছে তার উপরেও হার্টের স্বাস্থ্য নির্ভর করে বলে তাঁর মত।