দ্য ওয়াল ব্যুরো : দেরি হল এক সপ্তাহ। শেষপর্যন্ত শনিবার কেরল উপকূলে পৌঁছাল বর্ষা। আগামী চারমাস বর্ষা চলবে দক্ষিণের ওই রাজ্যে। বর্ষার শুরুতেই রাজ্যে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, অবশেষে বর্ষা শুরু হল কেরলে। এর আগে অবশ্য প্রাক বর্ষার বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু তা আশানুরূপ হয়নি। বেসরকারি আবহাওয়া অফিস স্কাইমেট জানিয়েছে, গত ৬৫ বছরে এত কম প্রাক বর্ষার বৃষ্টি হয়নি। কম বৃষ্টি হওয়ার ফলে ইতিমধ্যে দেশের নানা স্থানে চাষে সমস্যা দেখা গিয়েছে। পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে জলাধারগুলিতে জল কমছে।
বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে অতি বৃষ্টি ও অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কেরল উপকূলে বর্ষা আসার আগে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর থেকে কয়েকটি জেলাকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী ১০ জুন ত্রিচুরে ও ১১ জুন এর্নাকুলম, মালাপ্পুরম ও কোঝিকোড়ে অতি ভারী কিংবা চরম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া থিরুঅনন্তপুরম, কোল্লাম, আলাপ্পুঝা এবং এর্নাকুলমের কোনও কোনও অংশে ৯ ও ১০ জুন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। সেখানে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
গতবছর ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছিল কেরল। ৩০০-র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেজন্য এবার আগে থেকে সতর্ক আছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের আবহাওয়া দফতরের সচিব শেখর কুরিয়াকোস বলেন, ২০১৮ সালে যেমন বন্যা হয়েছিল, তার আগের ৯৮ বছরে তেমন হয়নি। ২০১৬ ও ’১৭-য় কেরল ভয়াবহ খরার কবলে পড়েছিল।
দিল্লি থেকে ভারতের আবহাওয়া দফতর কেরলকে সতর্ক করে বলেছে, আগামী কয়েকদিনে রাজ্যের নানা জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে কেরল প্রশাসন। প্রতিটি জেলার কালেক্টরকে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিশেষ নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
২০১৭ সালে কেরলে আঘাত করেছিল সাইক্লোন ওখি। উপকূলবর্তী চেল্লানাম অঞ্চলে ১০০ টি বাড়ি ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছিল। ১৮০ টি পরিবার স্থান নিয়েছিল ত্রাণ শিবিরে। সেবার বিপর্যয় মোকাবিলায় বিশেষ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিল কেরল সরকার। রাজ্য প্রশাসনের দাবি, সেই অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগবে।