দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী সপ্তাহের শনিবার লোকসভায় পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে মোদী সরকার। তার আগে শুক্রবার আর্থিক বিকাশ নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। তিনি বলেন, শুধু আর্থিক নীতির জোরেই অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। সেজন্য চাই কাঠামোগত সংস্কার। বাজারে চাহিদা বাড়ানো ও সামগ্রিকভাবে বিকাশের দিকে লক্ষ্য রেখে কয়েকটি ব্যবস্থাও নেওয়া দরকার।
এবার বাজেটের আগে মোট জাতীয় উৎপাদনের বৃদ্ধির হার নেমেছে ৭.৫ শতাংশে। গত ৪৮ বছরে জিডিপি বৃদ্ধির হার কখনও এত কমেনি। অর্থনীতির প্রকৃত বিকাশ হচ্ছে মাত্র ১১ শতাংশ হারে। ১১ বছরের মধ্যে বিকাশের এই হার সবচেয়ে কম। এই প্রেক্ষিতে আরবিআইয়ের গভর্নর বলেন, "আর্থিক নীতির সীমাবদ্ধতা আছে। চাহিদা ও বিকাশের বৃদ্ধির জন্য কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। আরও কয়েকটি আর্থিক ব্যবস্থা নিতে হবে।" এদিন সেন্ট স্টিফেন্স কলেজে ছাত্রদের সামনে বক্তব্য পেশ করেন শক্তিকান্ত দাস।
দ্বিতীয়বার মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রতিটি ত্রৈমাসিকেই কমেছে জিডিপি বৃদ্ধির হার। ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি কম হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের পক্ষে সুদের হার কমানো সম্ভব হয়েছে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে চার দফায় কমানো হয়েছে সুদের হার। এখন সুদের হার মাত্র ৫.১৫ শতাংশ।
গত অগাস্টে কর্পোরেট ট্যাক্সের হার ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পরেও অর্থনীতি চাঙ্গা হয়নি। বিনিয়োগও তেমন বাড়েনি। এই প্রেক্ষিতে শক্তিকান্ত দাস বলেছেন, অর্থনীতির কয়েকটি ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিলে অচলাবস্থা কাটতে পারে। তাদের মধ্যে আছে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, পর্যটন এবং ই-কমার্স।
অপর একটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পরিস্থিতির যথাযথ মূল্যায়ন করাই এখন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।"