
শেষ আপডেট: 19 June 2022 03:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগাল্যান্ডের (Nagaland) মন জেলায় গত বছর সেনার গুলিতে নিহত হন ১৩ জন স্থানীয় নাগরিক। প্রথমে সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে গুলি করে হত্যা করা হয় ৬ জনকে (Mon Murder Case)। পরে গ্রামবাসীরা অসম রাইফেলসের স্থানীয় ইউনিটে হামলা চালালে সেখানে সেনার গুলিতে নিহত হন আরও ৭ জন গ্রামবাসী।
সেনারা যাদের সন্ত্রাসবাদী বলে দাবি করে, তদন্তে দেখা যায় তারা সকলে স্থানীয় খনির শ্রমিক। তারা কাজ শেষে একটি ভ্যান গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। সেনা দাবি করেছিল, ভ্যান গাড়িটিকে তারা দাঁড়াতে বলেছিল। সেটি না দাঁড়ানোয় তারা গুলি চালায়।
সেনার এই বক্তব্যই ক’দিন পর সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু নাগাল্যান্ড পুলিশ তদন্ত শেষে সেনার কাছে পেশ করা চার্জশিটে একজন মেজর পদমর্যাদার অফিসার সহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে। তাতে খুনের চেষ্টার অভিযোগ, ষড়যন্ত্র এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল মন জেলার ওটিং গ্রামে। ওই ঘটনায় গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত ক্ষোভের আগুনে জ্বলে ওঠে। নাগাল্যান্ড-সহ উত্তর-পূর্বের বহু রাজ্যে আংশিক অথবা পুরো এলাকায় আফস্পা বা সেনা বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বলবৎ আছে। ওই আইনে সেনাকে পুলিশের থেকেও বেশি ক্ষমতা দেওয়া আছে। তারা বিনা নোটিসে যে কোনও জায়গায় তল্লাশি চালাতে পারে। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের প্রয়োজনে হত্যা করার অধিকারও দেওয়া হয়েছে ওই আইনে। দীর্ঘদিন ধরেই অসম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মণিপুরের মতো রাজ্যগুলি আফস্পা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। ওটিংয়ের ঘটনার পর ফের উত্তর-পূর্বের সব রাজ্য আফস্পা প্রত্যাহারের দাবি তোলে। সেই দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
কিন্তু সেনা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাকে গুরুত্ব দেয়নি নাগা পুলিশ। তারা গত এপ্রিল ও মে মাসে, দু-দফায় সেনাকে তাগাদা দিয়েছে চার্জশিটে অনুমোদন দিতে। নিয়ম হল, সেনার বিরুদ্ধে মামলা চালুর আগে তাদের কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেনা এখনও সম্মতি দেয়নি। সেনা বাহিনীর বক্তব্যও এই ব্যাপারে জানা সম্ভব হয়নি।