
শেষ আপডেট: 29 July 2023 04:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঐতিহাসিক মোহনবাগান দিবস (Mohun Bagan Day)। ১৯১১ সালের ২৯ জুলাই, সেদিন রচিত হয়েছিল এক নয়া ইতিহাস। ব্রিটিশ দল ইস্ট ইয়র্ককে ২-১ গোলে হারিয়ে মোহনবাগান (Mohun Bagan) জিতেছিল আইএফএ শিল্ড (IFA Shield)।
শিবদাস ভাদুড়ির নেতৃত্বে ১১ বঙ্গসন্তানদের নিয়ে গড়া দল ব্রিটিশ দলকে হারিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। অনেকে মনে করেন, ওই জয় ভারতের স্বাধীনতার বীজ রোপন করেছিল।
সেই শুরু, তারপর থেকে ওই দিনটিকে তামাম মোহনবাগান জনতা বিশেষ দিন হিসেবে পালন করেন। মোহনবাগান দিবস (Mohun Bagan Day) পালনও করা হয়। আজ শনিবার সেই দিন। ক্লাব মাঠে সমর্থকদের জমায়েত থেকে শুরু করে নানা উৎসব হয়ে থাকে।
গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে যাবে, সেই ঘটনা চিরন্তন থাকবে। দিনের পর দিন। খালি পায়ে লড়াই করে ওই খেতাব আনার কারিগরদের ভোলেনি মোহনবাগান প্রেমীরা। আজও ক্লাবের ওই রত্নদের কথা স্মরণ করা হয়।
যেমন করছেন উত্তরপাড়া গৌরিতে ওই দলেরই নামী সদস্য মনমোহন মুখোপাধ্যায়ের নাতি নিখিল মুখোপাধ্যায়। তিনি নিজের বাসভবনে বসে বলছিলেন, আমার বাবার মুখে গল্প শুনেছি খেলার দিন দাদু ছুটি নিয়েছিলেন অফিস থেকে। চাকরি করতেন রাজ্য সরকার পূর্ত দপ্তরে। তবুও প্রতিদিনের অভ্যাসের কারণে অফিসে একবার দেখা দিয়েই বেরিয়ে গিয়েছিলাম মাঠের উদ্দেশে।
ঐতিহাসিক ওই ম্যাচটিতে অভিলাষ ঘোষ যে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন, তার সোনার পাস ছিল মনমোহন মুখোপাধ্যায়ের। নাতি বিখ্যাত দাদুর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলছিলেন, গল্প শুনেছি সারা মাঠ জুড়ে খেলতে পারতেন দাদু। সবাই বলতেন, দাদুর নাকি দুটো ফুসফুস। নিজেদের বক্সে গিয়ে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি উঠে যেতেন আক্রমণেও।
পুরো পরিবারটাই মোহনবাগানী। দাদু তো ওই সোনার দলের সদস্য ছিলেন। নিখিল বাবুর বাবা বিমল মুখোপাধ্যায়ও সবুজ মেরুন জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন। দাদুর কথা বিশেষভাবে মনে পড়ে যাচ্ছে নাতির।
উত্তরপাড়ায় টিপটপ বাসস্ট্যান্ডের সামনে মনমোহন মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তিও রয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হয় আজকের দিনটিতে। মোহনবাগান মাঠে সমর্থকদের ভিড়ে আবেগের সমারোহ দেখা যাবে। শ্যামবাজারে মোহনবাগান লেনেও হবে সমানভাবে উৎসব।
বাঙালিদের কাছে ওই চিরন্তন লড়াইয়ের বর্ষপূর্তি হয়, তারপরেও আবেগ কমে না, বরং সেই মাদকতা, সেই আবেগ থাকেই বছরের পর বছর।
রাজেশ খান্নার সঙ্গে বিচ্ছেদ করেন সোবার্সের জন্যই, সেই অঞ্জুকে ভুলেই যান গ্যারফিল্ড!