
শেষ আপডেট: 6 May 2023 11:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশে সংস্কৃত শিক্ষা পরিষদের ১২ ক্লাসের পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে মহম্মদ ইরফান (Mohammad Irfan)। প্রায় ১৪ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮২.৭১ শতাংশ নম্বর পেয়ে শীর্ষ স্থান দখল করেছে সে। তাঁর লক্ষ্য এবার সংস্কৃততে শাস্ত্রী (স্নাতক) এবং আচার্য (স্নাতকোত্তর) ('Shastri', 'Acharya')পর্যন্ত পড়াশুনো চালিয়ে শিক্ষকতায় যুক্ত হওয়া। সে অনর্গল সংস্কৃততে কথা বলতে পারে।
ইরফানের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের চান্দৌলি জেলায়। সেখানকার সম্পূর্ণনানন্দ সরকারি সংস্কৃত বিদ্যালয়ের ছাত্র সে। সে সংস্কৃততে সেরা নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি বোর্ডের প্রথম কুড়ি জন পরীক্ষার্থীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। অন্যান্য বিষয়েও বেশ আকর্ষণীয় নম্বর পেয়েছে এই কিশোর। সম্পূর্ণ নিজের অধ্যাবশায় এই ফল করেছে ইরফান। কারণ তাঁর পরিবারের পক্ষে প্রাইভেট টিউটর রাখা সম্ভব ছিল না।
ইরফানের বাবা মাঝবয়সি সালাউদ্দিন পেশায় ক্ষেতমজুর। যদিও তিনি গ্র্যাজুয়েশেন শেষ করে পড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। চাকরিবাকরি না মেলায় ক্ষেতমজুরের কাজ করেন। তাঁর কথায়, ‘আমার দৈনিক আয় খুব বেশি হলে তিনশো টাকা। তাও মাসের সব দিন কাজ পাইনা।’ ছেলের সাফল্যে গর্বিত বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে মেধাবি, নিষ্ঠাবান। ওর কোনও চাহিদা নেই। একটা ছোট্ট ঘরে কোনওরকমে দিন কাটে আমাদের।’ তিনি আরও বলেন, চেয়েছিলাম একমাত্র সন্তানকে আরও ভাল স্কুলে পড়াব। কিন্তু সঙ্গতি নেই। তাই সাধারণ সরকারি স্কুলেই ছেলেকে ভর্তি করে দিয়েছিলাম। বছরে চার-পাঁচশো টাকা হলেই হয়ে যায়।
ছেলে ছোটবেলা থেকে সংস্কৃতের ভক্ত জানিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘ওর ইচ্ছাকে আমি মর্যাদা দিয়েছি। ছেলেও আমার মুখ রেখেছে।’ তাঁর কথায়, ‘আমি বুঝি না কেন মানুষ ভাষার সঙ্গে ধর্মকে জড়িয়ে ফেলে। একজন মুসলিম ভাল সংস্কৃত শিখতেই পারে। যেমন উর্দু শেখাটা একজন হিন্দুর কাছে কঠিন কিছু নয়। দুটোই সুন্দর ভাষা। আসলে ভাষাটা জানার কৌতুহল ও নিষ্ঠা থাকতে হবে।’
ছেলের সংস্কৃত ভাষার প্রতি টানের কথা বলতে গিয়ে সালাউদ্দিন আরও বলেন, ‘নিচুক্লাসে সংস্কৃত বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু বারো ক্লাসে একাধিক ভাষা থেকে একটি বেছে নিতে বলা হয়েছিল। আমার ছেলে সংস্কৃত নিয়েছিল।’
খাড়্গেকে সপরিবারে খুনের চক্রান্ত করেছে মোদী ঘনিষ্ঠ, গুরুতর অভিযোগ কংগ্রেসের