দ্য ওয়াল ব্যুরো:নেতাজির কাজ এবং লক্ষ্যই এ দেশকে 'আত্মনির্ভর' হয়ে ওঠার প্রেরণা জুগিয়েছে। ওঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।-- এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ শনিবার, নেতাজি জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কলকাতায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সংক্ষিপ্ত সময়ে একাধিক কর্মসূচি ছিল তাঁর, তার পরে বক্তৃতা রাখেন ভিক্টোরিয়ার অনুষ্ঠানে। সেখানেই নেতাজি ও তাঁর অবদান সম্পর্কে বলতে গিয়ে একথা বলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে মোদী আরও বলেন, "নেতাজি যে পুরুষার্থের কথা বলেছেন, তা আমাদের সাহস ও বীরত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের আত্মশক্তিতে ভরপুর হতে হবে। নিজের প্রতি যদি কেউ সৎ হন, তবে তিনি দেশের প্রতি অসৎ আচরণ করতে পারবেন না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "নেতাজি বলেছিলেন, 'স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন কখনও হারিও না। বিশ্বে এমন কোনও শক্তি নেই, যা ভারতকে বেঁধে রাখবে।' সত্যিই তাই। দুনিয়ায় এমন কোনও শক্তি নেই, যা ১৩০ কোটির দেশকে আত্মনির্ভর ভারত হওয়া থেকে আটকে রাখতে পেরেছে।"
অনেকেই বলছেন, আজকের বক্তৃতায় বারবার মোদী এটাই বলতে চেয়েছেন, যে নেতাজি যে স্বাধীন ও উন্নত ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নের সফল রূপই হল আজকের ভারতবর্ষ। মোদী মনে করিয়ে দেন, নেতাজি অশিক্ষা ও দারিদ্রকে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মনে করতেন। বিশ্বাস করতেন, সামাজিক ভাবনা দিয়েই এর সমাধান সম্ভব। একথা বলার পরেই মোদী উল্লেখ করেন, "আজ প্রতিটি গরিবের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা মিলছে। দেশের কৃষকদের আধুনিক সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করা হচ্ছে, দেশে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। নতুন শিক্ষানীতি আসতে চলেছে।"
এমন অবস্থায় ভারতকে দেখলে নেতাজি খুব খুশি ও গর্বিত হতেন বলেই দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর কথায়, "আমি অনেকবার ভেবেছি, এই যে নতুন ভারত গড়ে উঠছে, তা দেখে নেতাজি কত খুশি হতেন! পৃথিবীর সমস্ত ক্ষেত্রে উনি যখন ভারতকে এগিয়ে যেতে দেখতেন, ওঁর কেমন লাগত! আজ রাফালের মতো বিমান ভারতীয় সেনার হাতে। আরও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করছে সেনা। দেশের সেনাদের এই উন্নতি দেখে ওঁর কেমন লাগত! এই যে এত বড় মহামারীর সঙ্গে ভারত যে এমন জোরদার লড়েছে, ভ্যাকসিন বানিয়েছে, তা দেখে ওঁর কত না গর্ব হতো!"
"নেতাজি যেখান থেকেই আমাদের দেখছেন, আমাদের আশীর্বাদ করছেন ও স্নেহ দিচ্ছেন।"-- বলেন প্রধানমন্ত্রী।