মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, "সংবিধান হত্যা দিবস এই কথাটিতে আমার আপত্তি রয়েছে। ওরা এর্মাজেন্সি দিবস বলতে পারতো, তা বলেনি। ফলে ওরা ওদের মতো পালন করুক, আমরা আমাদের মতো পালন করছি না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 18 June 2025 17:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ২৫ জুন সারা দেশে 'সংবিধান হত্যা দিবস' (Constitution Assassination Day, ) পালন করতে চায় কেন্দ্র! এ ব্যাপারে বুধবার বিকেলে দিল্লি থেকে নবান্নে এসে পৌঁছেছে চিঠি। তারপরই সাংবাদিক বৈঠক থেকে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, "কীসের সংবিধান হত্যা দিবস? সারা দেশে বিজেপি যা করছে তাতে তো প্রতিদিনই গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করতে হয়। তাছাড়া এই তারিখটা ঠিক করলেন কীসের ভিত্তিতে?"
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, জরুরি অবস্থার ৫০ বছর তো গত বছর পেরিয়ে গেছে। তাহলে এবারে কেন সেই দিবস পালন করা হচ্ছে?
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, "ওরা বলছে, সংবিধান হত্যা দিবস পালন করা হবে। কিন্তু এই সংবিধান হত্যা কথাটায় আমার আপত্তি আছে। যদিও গণতন্ত্রের স্তম্ভগুলোকে ওরা ইতিমধ্যেই প্রতিদিন ধ্বংস করছে। ফলে ওরা ওদের মতো পালন করুক, আমরা আমাদের মতো পালন করছি না। কারণ, আমাদের মতো করে পালন করতে হলে প্রতিদিন গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করতে হবে।"
নিজের দাবির স্বপক্ষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "সেই ৮ নভেম্বর ২০১৬ নোটবন্দি থেকে পহেলগাম, প্রতিদিন দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। পহেলগামের পর এখনও সর্বদল বৈঠক ডাকা হল না। আমরা দলের তরফে পাঁচটা প্রশ্ন রেখেছিলাম। সে সবের কোনও উত্তর নেই। পার্লামেন্ট অ্যাটাক থেকে পহেলগাম- সন্ত্রাসবাদ বিরোধী দিবস কি পালন করা হয়েছে? আসলে বিজেপি যা বলছে কেন্দ্র তাই করছে। তাই এটা আমরা মানব না।"
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "নোটবন্দির সময়েই গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে। কত মানুষকে কত দিন ধরে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে নোট বদলানোর জন্য। ১৪০ জন মানুষ মারা গিয়েছেন! সেই দিনটাকে কেন ‘ব্ল্যাক মানি ডে’ বলে পালন করা হবে না?’’
এরপরই সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "দেশের প্রাইম মিনিস্টার কে? মোদী না শাহ? মোদী তো বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আর বকলমে তো দেশটা ওকে (অমিত শাহ) ছেড়ে দিয়েছেন। উনি কোনও নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না, ওরা আবার গনতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করতে চাইছে। কিনা ওই দিন নাকি নেতাজির ছবি দেখাবে। ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল, নেতাজি অন্তর্ধান রহস্য উদঘাটন করবেন, আজ অব্দি করেছেন? করেননি, আসলে এই সরকারটা জুমলা সরকার।"
কটাক্ষের সুরে মমতা এও বলেন,'প্ল্যানিং কমিশন তুলে নীতি আয়োগ করেছেন, যার না আছে কোনও নীতি না কোনও প্ল্যানিং!'
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপি গায়ের জোরে বিভিন্ন রাজ্যের ক্ষমতা কেড়ে নিতে চাইছে। গত তিন বছর ধরে বাংলার ১০০ দিনের কাজ-সহ প্রতিটি প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে। মিডিয়া, ইলেকশন আর ন্যায় বিচারের জন্য বিচারালয়, কোনটাকে ওরা নিরপেক্ষ রেখেছে? ওদের কাছ থেকে আবার গণতন্ত্রের মতাদর্শ শুনতে হবে? ওরা তো পারলে দেশের ইতিহাসও বদলে দিতে চায়। মনে আছে বিল পাশ করার সময় কীভাবে বিরোধী সাংসদের সাসপেন্ড করেছিল। এরা আবার বড় বড় কথা বলে কি করে?"
খানিক থেমে কটাক্ষের সুরে মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, "রেলের নিরাপত্তা রক্ষীদের তো ভাঙা ট্রেন দেন, দরজা ভাঙা, বিছানাও নেই। এই তো চলছে দেশের রেল আর প্লেন। সবটাই তো বিক্রি করে দিয়েছেন। দেশটাকে করেছেন শেষ, বাহ্ বিজেপি বেশ, বেশ, বেশ! আমি এটাকে ধিক্কার জানাই। আপনাদের উত্তর দেওয়ার জন্য দেশের মানুষ তৈরি হচ্ছে।"