দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত কয়েকদিন যাবৎ স্থায়ী ডিরেক্টর ছাড়াই চলছে সিবিআইয়ের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় এক গোয়েন্দা সংস্থা। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, সরকার চায় না সিবিআইতে কোনও স্থায়ী ডিরেক্টর থাকুন। তাহলে গোয়েন্দা সংস্থাকে শক্তিহীন করে রাখা যাবে। এর পরে জানা গেল, সিবিআইয়ে স্থায়ী ডিরেক্টর বেছে নেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবারই উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কমিটিতে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রতিনিধি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
এখন সিবিআইয়ের দায়িত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান এম নাগেশ্বর রাও। তিনি প্রথমবার গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব নেন গতবছর ২৩ অক্টোবর। পরে সুপ্রিম কোর্ট আগের ডিরেক্টর অলোক বর্মাকে নিজের পদে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু দু’দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটি তাঁকে সরিয়ে দেয়। ফের সিবিআইয়ের দায়িত্বে আসেন নাগেশ্বর। যে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি বর্মাকে সরিয়ে দিয়েছিল, তা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। কারণ তিনি আগে বর্মার পিটিশন শুনেছিলেন। তাঁর বদলে কমিটিতে ছিলেন বিচারপতি এ কে সিক্রি। এর পরে নাগেশ্বর রাওকে অন্তর্বর্তী প্রধান নিয়োগের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন জমা পড়েছে। তার শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বিচারপতি এ কে সিক্রি। কারণ তিনি উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে বর্মাকে সরানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তাঁর জায়গাতেই নাগেশ্বর রাওকে নিয়োগ করা হয়েছে।
কমন কজ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে, নাগেশ্বরকে সিলেকশন প্যানেলের সুপারিশ মেনে নিয়োগ করা হয়নি। সুতরাং তাঁর নিয়োগ বেআইনি। আবেদনকারীরা চান, সিবিআইতে একজন স্থায়ী সময়ের প্রধান নিয়োগ করা হোক। ঠিক কীসের ভিত্তিতে সিবিআইতে একজনকে ডিরেক্টর নিয়োগ করা হচ্ছে, তা প্রকাশ করারও দাবি জানিয়েছে কমন কজ।
গত অগাস্ট মাস থেকে সিবিআইয়ের প্রধান অলোক বর্মা এবং স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। উভয়েই ঘুষ খাওয়ার অভিযোগ আনেন পরস্পরের বিরুদ্ধে। অক্টোবরে সিবিআই আস্থানার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে।
২৩ অক্টোবর গভীর রাতে বর্মা ও আস্থানা, দু’জনকেই ছুটিতে পাঠায় সরকার। তাদের বক্তব্য, দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার দুই কর্তা যেভাবে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছেন, তাতে সিবিআইয়ের সম্মানহানি হচ্ছে। বর্মা সরকারের এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন। ৮ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট ফের তাঁকে আগের পদে ফিরিয়ে দেয়।