দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্ত্রীকে নিয়ে বিদ্রুপ করেছিলেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতী। মঙ্গলবার ফের তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপিকে। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এদিন টুইট করে বলেন, মোদীর সরকার হল ডুবন্ত জাহাজ। তার প্রমাণ হল, আরএসএস-ও তাকে ছেড়ে গিয়েছে।
রাজস্থানের আলোয়ারে এক দলিত মহিলাকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মায়াবতীর সঙ্গে মোদীর বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ, ভোটের জন্য পুলিশ মহিলার অভিযোগ নিতে চায়নি। মোদী প্রশ্ন তোলেন, এর পরেও মায়াবতী রাজস্থানে কংগ্রেস সরকারকে সমর্থন করছেন কেন? তিনি দলিতদের জন্য কুমিরের কান্না কাঁদেন।
মায়াবতী তার জবাবে বলেন, গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী মোদী লখনউতে ড্রামাবাজি করে গেলেন। সকলকে বোঝাতে চাইলেন, তিনি দলিতদের খুব ভালোবাসেন। এতে দলিতদের কোনও উপকার হবে না। দলিতদের ওপরে যখন অত্যাচার হয়, তিনি চুপ থাকেন। তিনি আলোয়ারের ঘটনা নিয়ে নোংরা রাজনীতি করতে চান।
এরপরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, বিএসপি নেত্রীর কথা শুনে মনে হয়, তিনি কোনও সরকারি পদে থাকার যোগ্য নন। তিনি টুইট করেন, মায়াবতী এত নীচে কখনও নামেননি। বহিন মায়াবতী নিশ্চিত যে, তিনি প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেনই। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, নীতিবোধ ও ভাষা আগে কখনও এত খারাপ ছিল না।
মঙ্গলবার মায়াবতী কয়েক দফা টুইট করে বলেন, মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য অনেক নেতা নিজেকে সেবক বলে দাবি করে। কেউ বলে আমি প্রধান সেবক। কেউ বলে আমি চা ওয়ালা। কেউ নিজেকে বলে চৌকিদার।
এরপর মোদীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আমাদের একজন সত্যিকারের প্রধানমন্ত্রী চাই। মানুষ এইসব ছদ্মবেশীদের আর চায় না। এবার আর কাউকে বোকা বানানো যাবে না।
নির্বাচন কমিশনের কাছে মায়াবতীর আর্জি, কোনও প্রার্থীকে যদি প্রচার করতে নিষেধ করা হয়, নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার সময় তিনি যাতে মন্দিরে না যেতে পারেন, সেদিকেও নজর রাখা উচিত। এবার ‘উস্কানিমূলক’ প্রচারের দায়ে যে প্রার্থীদের কিছুদিন প্রচার করতে দেওয়া হয়নি, তাঁদের অন্যতম হলেন মায়াবতী।
তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে আরও একটি আর্জি জানিয়ে বলেছেন, প্রার্থীরা রোড শোয় বা মন্দিরে গিয়ে কত টাকা খরচ করছেন, সেদিকেও নজর রাখা উচিত। কারণ এই খরচও তাদের নির্বাচনের মোট ব্যয়ের অন্তর্গত।