
শেষ আপডেট: 8 November 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক টানা পনেরো বছর শাসন কম নয়! মধ্যপ্রদেশ জুড়ে তীব্র প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া যে বইছে ঠাওর করতে অসুবিধা হচ্ছে না নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত তাঁর পুরনো টোটকাই কাজে লাগাতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্তমান ও প্রাক্তন মন্ত্রী এবং প্রবীণ বিধায়ক মিলিয়ে প্রায় ৪৩ জনকে এ বার ভোটে টিকিটই দিলেন না তিনি। পরিবর্তে ওই সব আসনে নিয়ে এলেন এক্কেবারে ঝকঝকে নতুন মুখ। যাঁদের ঘিরে আপাতত কোনও বিতর্ক নেই। এবং তা করতে গিয়ে ইনদৌরের মহু বিধানসভা আসনে কৈলাস বিজয়বর্গীকে আর প্রার্থীই করলেন না মোদী-শাহ।
এক সময়ের ইনদৌরের মেয়র ছিলেন কৈলাস। পরে ২০০৮ সালে মহু বিধানসভা আসনে জিতে রাজ্যে মন্ত্রী হয়েছিলেন। মধ্যপ্রদেশ বিজেপি-তে তিনি শিবরাজ সিংহ চৌহানের বিরোধী বলেই পরিচিত। এবং সেই কারণে মধ্যপ্রদেশের একদা এই শিল্পমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে এনে দলের কেন্দ্রীয় সংগঠনে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল মধ্যপ্রদেশ থেকে দূরে রাখার জন্যই। দলের একটি সূত্রের মতে, কৈলাসের শিবরাজবিরোধী ভাবমূর্তির কারণেই সম্ভবত তাঁকে আর প্রার্থী করল না দল। মহুতে তাঁর পরিবর্তে প্রার্থী করা হয়েছে উষা ঠাকুরকে। একই ভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল গৌড়, প্রাক্তন মন্ত্রী শরতাজ সিংহ ও কুসুম মেহেডেলেকেও প্রার্থী করেনি বিজেপি।
আরও পড়ুন: দিদির ফোঁটা পেলেন না, নাকি নিলেন না শোভনযদিও বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে, সাংগঠনিক দায়িত্বের জন্যই কৈলাসকে ভোটে প্রার্থী করা হল না। তাঁর ছেলে আকাশ বিজয়বর্গীয়কে ইনদৌর-৩ আসনে প্রার্থী করা হচ্ছে। তবে বিজেপি-র অন্দরের খবর, ছেলের জন্য টিকিট পেতে গিয়েও কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে কৈলাসকে। এমনকী ছেলের জন্য ইনদৌর-২ বিধানসভা কেন্দ্রের আসন চেয়েও তা পাওয়া যায়নি।
মুখে অবশ্য কৈলাস বলছেন, “নতুন প্রজন্ম এগিয়ে আসাই ভাল।” তবে বিজেপি মহলে পরিষ্কার মধ্যপ্রদেশের বড় কুর্সির দিকে বরাবরের নজর রয়েছে কৈলাসের। ভোট তাঁকে প্রার্থীই না করায় সেই সম্ভাবনা আপাতত বিশ বাঁও জলে গেল। ফলে দলের এই সিদ্ধান্ত তাঁকে ধাক্কা দিয়েছে তা নিয়ে সংশয় নেই।
ঘটনা হল, মহু বিধানসভা কেন্দ্র থেকে উষা ঠাকুরের নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করার পরেই সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছে। গত দু’দিন ধরে মহু-র বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় বিজেপি কর্মীরাই এ ব্যাপারে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এমনকী উষা ঠাকুরের কুশ পুতুল দাহ করা হয়েছে। গোটা ঘটনায় কৈলাসের অনুগামীদের বিরুদ্ধেই আঙুল উঠছে।
২৩০টি আসনের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় বিজেপি-র বিধায়ক রয়েছেন ১৬৫ জন। তার মধ্যে ৪৩ জনকে টিকিট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বড় ঘটনা বইকি। কারণ, সেক্ষেত্রে অন্তকর্লহের জেরে অনেক আসনে যাত্রাভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে কারও কারও মত। কিন্তু মোদী-অমিত শাহদের মত ভিন্ন। এবং এ ব্যাপারে তাঁদের অভিজ্ঞতাও অন্যরকম। বিজেপি-র এক শীর্ষ নেতার কথায়, মোদী মনে করেন প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা সব সময় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে হয় না। স্থানীয় ভাবে বিধায়ক-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও হয়। তাই তাঁদের টিকিট না দিলেই সেই হাওয়া বেরিয়ে যায়। গুজরাতের সৌরাষ্ট্রে ঠিক এক কৌশলে মোদী একাধিকবার সোনাও ফলিয়েছেন। এ বার সেই টোটকাই ব্যবহার করা হচ্ছে মধ্যপ্রদেশে।