দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক'দিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে বড় ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, এপ্রিলে কলকাতায় যে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন হবে সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেই আমন্ত্রণ মোদী গ্রহণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার আবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি গৌতম আদানি। সেই বৈঠকের পর আদানি নিজেই টুইট করে জানিয়েছেন যে বাংলায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও সুযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত কথা হয়েছে। বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে তিনি উপস্থিত থাকবেন।
এই দুই ঘটনা মেলালে ধরে নেওয়া যেতে পারে যে বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে এ বার চাঁদের হাট বসতে পারে। মোদী-আদানি তাঁদের মধ্যে অন্যতম। এরই সঙ্গে মুকেশ আম্বানি জুড়লে সম্মেলনের ওজন ও মাত্রা যে বহুগুণে বেড়ে যাবে তা নিয়ে সংশয় নেই। এবং সেখানে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা হবে তা যদি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়, তা হলে বাংলায় শিল্প মানচিত্রে ফাঁকা স্থান কিছুটা ভরাট হওয়ার আশা রয়েছে। আশা রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির। প্রসঙ্গত, বর্তমানে রাজ্যে দেউচা পাচামি কয়লা খনির বরাত দেওয়া এবং সেখানে বড় বিনিয়োগে আশায় রয়েছে নবান্ন।
তবে এ ধরনের ত্র্যহস্পর্শ হলে তা নিয়ে অবধারিত ভাবে রাজনৈতিক পরিসরেও আলোচনা শুরু হয়ে যায়। মমতা-আদানি বৈঠকের পর তেমনই হয়েছে। অতীতে একবার দিল্লিতে এ কে গোপালন ভবনে গিয়ে তৎকালীন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাটের সঙ্গে দেখা করেছিলেন শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি। তখন প্রথম ইউপিএ জমানা। বামেরা সেই সরকারের চালিকা শক্তি। তাই তাঁদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি জরুরি বলেই হয়তো মনে করছিলেন মুকেশ আম্বানি। আবার তা নিয়ে রাজনীতিতে আলোচনাও কম হয়নি। বামেদের মধ্যে থেকেও অনেকে ভ্রূ তুলেছিলেন।
আর এখন মোদী-আম্বানি-আদানি জুটি রাজনৈতিক ভাবে অতি সমালোচিত। কেন্দ্রে মোদী সরকার দেশের সমস্ত সম্পদ কিছু শিল্পপতির হাতে তুলে দিচ্ছে বলে বামেরা এমনকি তৃণমূলও সদ্য অতীতে বারবার সমালোচনা করেছে। এমনকি মোদী-শাহকে ও আদানি-আম্বানিকে এক বন্ধনীতে ফেলে বিরোধীরা কটাক্ষ করে এও বলেন, হাম দো হামারা দো। তাই এদিন মমতা-আদানি বৈঠকের পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও অবধারিত ছিল। যেমন লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেছেন, মোদী-দিদি সেটিং রয়েছে। মোদীই হয়তো পাঠিয়েছেন আদানিকে।
প্রসঙ্গত, পুঁজিপতিদের হাতে সম্পদের কেন্দ্রিকরণ নিয়ে বুধবার মুম্বইতে মমতার সামনেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন সমাজ কর্মী মেধা পাটেকর। তবে সে ব্যাপারে কৌশলী জবাব দিয়েছিলেন। অনেকের মতে, সেই জবাব বাস্তবসম্মতও বটে। মমতা বলেছিলেন, দেশে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য আদানি-আম্বানির যেমন প্রয়োজন, তেমনই সরকারকে সাধারণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষার দিকেও মন দিতে হবে। সবাইকে নিয়েই চলতে হবে। কাউকে বাদ দিয়ে চলা বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে না।