দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড ভ্যাকসিন তৈরিতে ব্রিটেনকেও কি টেক্কা দিতে চলেছে আমেরিকা! অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি দাবি করেছে সেপ্টেম্বরেই তাদের কোভিড ভেক্টর ভ্যাকসিন চলে আসতে পারে বাজারে। এবার আমেরিকার বায়োটেকনোলজি ফার্ম মোডার্না দাবি করল জুলাই মাসের মধ্যেই তাদের এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যেতে পারে। সুইৎজারল্যান্ডের অন্যতম বড় ভ্যাকসিন ও ওষুধ নির্মাতা সংস্থা লোনজ়া গ্রুপ এজির সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি হয়েছে মোডার্নার। দুইয়ের মিলিত প্রয়াসেই এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে লোনজ়া গ্রুপেও।
প্রথম মানুষের শরীরে কোভিড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করেছিল ম্যাসাচুসেটসের বায়োটেকনোলজি ফার্ম মোডার্না। মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (NIH)-এর তত্ত্বাবধানে এই এমআরএনএ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল দুই সন্তানের মা ৪৩ বছরের জেনিফার হ্যালারকে। সেই ট্রায়াল এখনও অবধি সফল বলেই দাবি করেছে মোডার্না। জেনিফারের শরীরে এই ভ্যাকসিনের এখনও অবধি কোনও খারাপ ফল দেখা যায়নি। মে মাসের মাঝামাঝি এই ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হবে বলেই জানানো হয়েছে সংস্থার তরফে।
https://twitter.com/moderna_tx/status/1256085924750020608
মোডার্নার তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, “প্রাথমিকভাবে জেনিফারকে এই ভ্যাকসিন দিয়ে দেখা হয়েছিল। এবার পরবর্তী পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হবে খুব তাড়াতাড়ি। এই ট্রায়ালের রেজাল্টের দিকে নজর রেখেই বাণিজ্যিক হারে ভ্যাকসিন বানানোও শুরু হবে। সুইস বায়োটেকনোলজি ফার্ম লোনজ়া গ্রুপের সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তিতে প্রতি বছরই প্রায় ১০০ কোটি ডোজে ভ্যাকসিন তৈরি হবে বলে জানিয়েছে মোডার্না। জুন থেকেই উৎপাদন শুরু হবে বলে দাবি তাদের। প্রথম ইউনিট চলে আসবে জুলাইয়ের মধ্যেই।“ কোভিড ভ্যাকসিনের গবেষণার জন্য মাসের শুরুতেই মোডার্নাকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার অনুদান দিয়েছে মার্কিন সরকার।
[caption id="attachment_216362" align="aligncenter" width="710"]
জেনিফার হ্যালারকে প্রথম দেওয়া হয়েছিল এই এমআরএনএ ভ্যাকসিন[/caption]
ভ্যাকসিনের নাম এমআরএনএ-১২৭৩ (mRNA-1273)। মোডার্না বায়োটেকনোলজি ফার্মের সঙ্গে এই এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসিয়াস ডিজিজ (NIAID)-এর ভ্যাকসিন রিসার্চ সেন্টারের (VRC)বিজ্ঞানীরা।
এমআরএনএ-টেকনোলজিতে (mRNA Technology) তৈরি এই ভ্যাকসিন ভাইরাল প্রোটিনগুলোকে ধ্বংস করবে বলে দাবি
২০১০ সাল থেকে পথ চলা শুরু মোডার্নার। মার্কিন সরকারের ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রোজেক্ট এজেন্সি (DARPA)-র অনুমোদনপ্রাপ্ত এই সংস্থা জানিয়েছে, মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ (mRNA) সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়েই এই ভ্যাকসিন বানানো হয়েছে। এমআরএনএ হল শরীরের বার্তাবাহক। কোন কোষে প্রোটিন তৈরি হচ্ছে, কোথায় কী রাসায়নিক বদল হচ্ছে সবকিছুর জিনগত তথ্য বা ‘জেনেটিক কোড’ জোগাড় করে সেটা শরীরের প্রয়োজনীয় জায়গায় পৌঁছে দেওয়া। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন বার্তাবাহক এমআরআনএ-কেই ভ্যাকসিন তৈরির ভিত হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই ভ্যাকসিনের কাজ হবে শরীরের কোষগুলিকে অ্যান্টি-ভাইরাল প্রোটিন তৈরি করতে উৎসাহ দেওয়া। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বিজ্ঞানী বব ল্যাঙ্গার বলেছেন, “বাইরে থেকে প্রোটিন-ড্রাগ ইনজেক্ট না করে, এমএরএনএ ভ্যাকসিন দিয়ে যদি কোষের মধ্যেই ভাইরাস-প্রতিরোধী প্রোটিন তৈরি করা যায় তাহলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বাড়ে।“
একই দাবি হার্ভার্ড স্কুল অব মেডিসিনের ইমিউন-ডিজিজ বিশেষজ্ঞ টিম স্প্রিংগারেরও। তিনি বলেছেন, ‘‘১৮ মাস ধরে এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চলছিল। প্রথমবার মানুষের উপর পরীক্ষা করি আমরা। সেই ট্রায়ালের ফল এখনও সন্তোষজনক। এই ভ্যাকসিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে বলে আশা করা যায়, কোষের মধ্যে অ্যান্টি-ভাইরাল প্রোটিন তৈরি করবে। ফলে মারণ ভাইরাস আর শরীরে সংক্রমণ ছড়াতে পারবে না।’’
ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বলছেন, সার্স-সিওভি-২ ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনগুলো মানুষের শরীরের বাহক কোষে নিজেদের পছন্দের রিসেপটর খুঁজে নিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে ভাইরাল প্রোটিনগুলো এসিই২ (ACE-2)রিসেপটরের সঙ্গে জোট বেঁধে কোষে প্রবেশ করছে। এই ভ্যাকসিন জোট বাঁধার এই প্রক্রিয়াকে রুখবে। পাশাপাশি, অ্যান্টিজেন তৈরি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সাহায্য করবে।