
শেষ আপডেট: 27 December 2023 17:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বারুইপুরের বিধায়ক। বুধবার বারুইপুরে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বিমানবাবুর নাম উল্লেখ না করে তাঁকে 'বারুইপুরের এমএলএ-বাবু' বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু।
বিরোধী দলনেতা বলেন, "বারুইপুরের এমএলএ বাবু আমাকে বিধানসভা থেকে তাড়াতে পারলে বাঁচেন! কয়েকদিন আগে এখানে তৃণমূলের নিজেদের গোষ্ঠী কোন্দলে একজন প্রধান খুন হয়েছেন। তারপরে ঘটনাস্থলে এসে উনি বলে গেছেন এই খুনের পিছনে নাকি সিপিএম আর বিজেপি রয়েছে।"
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে স্পিকারকে শুভেন্দুর খোঁচা দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে সম্প্রতি বিধানসভায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। এবারে বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনের শুরুতেই শুভেন্দুকে সাসপেন্ড করেছিলেন স্পিকার।
গত ২৮ নভেম্বর বিধানসভার অধিবেশনে স্পিকার এবং শুভেন্দু তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ওই সময় শুভেন্দু একটি কাগজ ছিঁড়ে শুন্যে ছুড়ে দেন। তা দেখে স্পিকার বলেন, বিধানসভার ভেতরে এই আচরণ ঠিক নয়, বরদাস্ত করব না। শুভেন্দু পাল্টা বলেন, বেশ করেছি।
ওই ঘটনায় শুভেন্দুকে সাসপেন্ডের দাবি তোলেন তৃণমূলের বিধায়কেরা এরপরই শুভেন্দুকে শীতকালীন অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করেন স্পিকার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে সময় বিধানসভার অভ্যন্তরে শাসক-বিরোধীর তুমুল হইহট্টগোল দেখা গিয়েছিল।
ওই ঘটনার অব্যবহিত পড়ে গত ৭ ডিসেম্বর বিধায়কদের মধ্যে বারুইপুরের পেয়ারা বিলি করেছিলেন স্পিকার বিমানবাবু। ছোট ছোট পলিথিনে করে বিধায়কদের সকলকে দেওয়া হয়েছিল ওই পেয়ারা। সে সময় স্পিকারের পেয়ারা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শুভেন্দু সহ বিজেপি বিধায়করা।
শুধু শীতকালীন অধিবেশনে নয়, এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে স্পিকার বনাম বিরোধী দলনেতার তর্কাতর্কির সাক্ষী থেকেছে বিধানসভা। সেকারণেই সরাসরি স্পিকারের নাম উল্লেখ না করে এদিনের দলীয় সভা থেকে শুভেন্দু তাঁকে বারুইপুরের বিধায়ক হিসেবে কটাক্ষ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
স্পিকার পদটি নিরপেক্ষ। কিন্তু বিমানবাবু সেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখছেন না বলে আগেও একাধিকবার অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু। এদিন 'বারুইপুরের 'এমএলএ-বাবু'' বলে পরোক্ষে শুভেন্দু সেটাই স্পষ্ট করতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। যদিও এ ব্যাপারে স্পিকারের কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। প্রতিক্রিয়া এলে এই প্রতিবেদনে আপডেট করে দেওয়া হবে।