দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাংবাদিক প্রিয়া রামানির সঙ্গে কোনও মিটিংই হয়নি হোটেলে, দিল্লি আদালতে এমনটাই দাবি করলেন যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী, সাংবাদিক ও সাংসদ এমজে আকবর।
বছর দুয়েক আগে সাংবাদিক প্রিয়া রামানি অভিযোগ তুলেছিলেন যে, ২০ বছর আগে একটি হোটেলের ঘরে তাঁর যৌন নিগ্রহ করেছিলেন এমজে আকবর। দেশজুড়ে চলা 'মিটু' আন্দোলনের আবহে এটি একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছিল। অভিযোগ দায়ের হয় আকবরের বিরুদ্ধে। এর পরে প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে পাল্টা মানহানির মামলা দায়ের করেন আকবর।
বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে এমজে আকবরের আইনজীবী গীতা লুথরা বলেন, "আমার মক্কেলের সঙ্গে কোনও হোটেলে কখনও দেখাই হয়নি অভিযোগকারিণীর। তা যদি না হবে, তাহলে যৌন হেনস্থার অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।"
নিজের সওয়ালের সপক্ষে তিনি যুক্তি দেন, হোটেলের ঘরে প্রিয়া রামানির সঙ্গে যখন এমজে আকবরের দেখা হয়নি, তখন সোফার রং কী ছিল, সেদিন কী ঘটেছিল এই প্রসঙ্গগুলো আর ওঠে না। তাছাড়াও অভিযোগকারিণী না তারিখ বলতে পেরেছেন, না হোটেলের রেজিস্টারে কোনও তথ্য মিলেছে, না সিসিটিভি ফুটেজে কিছু দেখা গেছে ওই হোটেলে যাওয়ার ব্যাপারে। তার উপর এত বছর পরে অভিযোগকারিণীর মনে পড়েছে হেনস্থার কথা!
"কোনও ঘটনার ৩০-৪০ বছর পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বিচার হয়ে যেতে পারে না। আইন বলে, অভিযোগ যদি আনতেই হয় তবে তার সপক্ষে প্রমাণও আনতে হয়।"-- বলেন আইনজীবী লুথরা। তিনি দাবি করেন, প্রিয়া রামানি সারা বিশ্বজুড়ে চলা মিটু আন্দোলনের স্রোতে গা ভাসিয়েছেন।
তবে প্রিয়া রামানি একা নন। তিনি অভিযোগ তোলার পরে ২০ জনেরও বেশি মহিলা সাংবাদিক জানিয়েছিলেন তাঁরা বিভিন্ন সময়ে এমজে আকবরের কাছে যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন। নয়ের দশকে এমজে আকবরের সঙ্গে কাজ করা ওই ২০ জন সাংবাদিক যৌথ বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, "আদালতের কাছে আমাদের আবেদন, মানহানির ওই মামলাটি শোনার সময়ে আরও একটি বিষয়ে নজর রাখা হোক। আকবরের কাছে যৌন হেনস্থার শিকার বা এমন ঘটনার সাক্ষীদের বয়ান শুনে এই মামলার বিচার হোক।"
প্রিয়া রামানির অভিযোগ ছিল, ২৩ বছর আগে জয়পুরের একটি হোটেলে তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন এমজে আকবর। এমজে আকবর প্রথমে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেন, ওটা 'সম্মতিক্রমে' গড়ে ওঠা সম্পর্ক ছিল। তাকে হেনস্থার আওতায় ফেলা যায় না কোনও ভাবেই। উল্টে প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ৯৭ জন উকিলকে নিয়ে।
এবার তিনি অস্বীকার করলেন হোটেলে দেখা করার কথা।