
শেষ আপডেট: 28 September 2021 09:08
হাজার স্মৃতি জড়িয়ে থাকা এই মিত্রা সিনেমা হলের ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। অর্থের অভাবে এই সিনেমা হল আর চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না বর্তমান মালিক দীপেন্দু কৃষ্ণ মিত্রের। অবিবাহিত দীপেন্দুবাবু তাই এটা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে যাওয়ার পর অবশেষে শুরু হয়ে গেল ঐতিহ্য পতনের।
আরও পড়ুনঃ মালদহের বন্যাত্রাণ দুর্নীতি মামলা: প্রশাসন কি ঘুমোচ্ছিল? রাজ্যকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের
দেখতে দেখতে নতুন বিল্ডিং হয়ে উঠবে এই জায়গায়। তবে এখনও স্টিলের ফলকে জ্বলজ্বল করছে 'মিত্রা' সিনেমা হলের নাম। দু'দিন পর সেটিও অতীত হয়ে যাবে। থেকে যাবে শুধু নামটুকু। আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগেও এমন ফাঁকা চিত্র ছিল না এই হলের। মিত্রার সঙ্গে অনেক দিনের সম্পর্ক সহদেব দাসের। ঝালমুড়ি নিয়ে বসতেন তিনি শোয়ের সময়। বিক্রি ভালোই হত সেই সময়ে। পরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মিত্রা সিনেমা হলের সামনেই জামা কাপড়ের দোকান দিয়েছেন তিনি।
স্মৃতিচারণ করতে করতে সহদেববাবু বলেন, "দীর্ঘ ৪০ বছর এই মিত্রা সিনেমা হলের সামনে দোকান আমার। একটা সময় ছিল এই হল হাউজফুল থাকত। এখন সেই সংখ্যা ধীরে ধীরে হাতেগোনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।"
শুধু মিত্রা নয়, এই উত্তর কলকাতার বুকে অনেক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। রাধা সিনেমা, শ্রী সিনেমা জ্বলজ্বল করত এই এলাকায়। ধীরে উঠে গেছে সব। সবেতেই আধুনিকতার ছোঁয়া। এই মিত্রাও সেই চেহারা নেবে, নস্টালজিয়া হারিয়ে যাওয়ায় আক্ষেপ সুদেববাবুর।
মিত্রার সামনেই জল-সরবতের দোকান নাগেশ্বর পালের। তাঁর বাবা এখানে ৫০ বছর আগে এই দোকান দিয়েছিলেন। এখন দাদার সঙ্গে দোকান সামলান নাগেশ্বরবাবু। তাঁর স্মৃতিতে ভেসে উঠছে একসময়ে এই মিত্রা সিনেমার চিত্র। এত মানুষের ভিড় হত যে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার উপায় থাকত না। সেই ভিড় চোখের সামনেই উধাও হতে দেখেছেন নাগেশ্বরবাবু।
সিনেমা হল থাকলে লাভই হত ফুটপাতের ব্যবসাসায়ীদের, এমনই জানান বিমল মণ্ডল। "যত মানুষই আসতেন সিনেমা দেখতে তাঁরা দোকানে জামা কাপড় দেখতেন। আর এখানে যদি কোনও শপিং মল হয়ে যায়, ক্ষতি আমাদেরই হবে" আক্ষেপের সুরে বলেন বিমলবাবু।
১৯৩১ সালে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর হাতে উদ্বোধন হওয়া মিত্রা তখন 'চিত্রা' নামেই চিনতেন সবাই। মালিকানা পরিবর্তন হওয়ার পর ১৯৬৪ সালে 'মিত্রা' নামে বিধান সরণি জমিয়ে রাখত সিনেমা হলটি। দীর্ঘ যাত্রা পথে বহু নামি দামি শিল্পীদের আনাগোনা ছিল এই হলে। সত্যজিৎ রায় থেকে তপন সিনহা বহু গুনীদের পায়ের ধুলোয় স্বরণীয় হয়ে থাকা 'মিত্রা' আজ ইতিহাসের পাতায়।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'