
শেষ আপডেট: 22 January 2023 11:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক দশক আগেও নাকি এলাকায় একাধিক পুকুর ছিল। অন্তত খান পাঁচেক জলাশয়ের কথা স্মরণ করতে পারছেন পুরনো বাসিন্দারা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয় শুকিয়ে গেছে সেগুলি, না হলে পুকুর ভরাট করে তার উপর তৈরি হয়েছে বাড়ি-ঘর, হোটেল-রেস্তোরাঁ (ponds)। কিন্তু জলের ফল্গুধারা হয়তো রয়ে গেছে ইট-কাঠ-পাথরের নীচে। সেই জলই চুঁইয়ে উঠে আসছে উপরে, ফাটল ধরাচ্ছে বাড়িতে। আজকের জোশীমঠ (Joshimath) বিপর্যয়ের পিছনে জলাশয়ের রাতারাতি গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনাকেও অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন এলাকার মানুষজন।
অন্তত তিন পুরুষ ধরে জোশীমঠের বাসিন্দা রামেশ্বরী সতী। ছোটবেলায় সুনীল কুণ্ড (Sunil Kund) এবং সাভি এলাকায় অন্তত ৩টি পুকুর ছিল বলে দাবি তাঁর। এখন সেখানেই বসতি গড়ে উঠেছে। 'আমরা তখন বেশ ছোট, ষাটের দশকে ওইসব জায়গায় হাঁটতে যেতাম। পুকুর থেকে জল নিয়ে আসতাম। এখন সব পুকুর বুজিয়ে তার উপর বাড়িঘর হয়ে গেছে। আমাদের ধারণা, মাটির নীচে দিয়ে এখনও জল বয়ে যায়, আর সেই কারণেই বাড়িতে ফাটল ধরছে, কারণ ওই জল উপরে উঠে আসার চেষ্টা করছে,' দাবি তাঁর।
শান্তি চৌহান এলাকার আর এক পুরনো বাসিন্দা। একই কথা শোনা গেল তাঁর মুখ থেকেও। 'পরপর তিনটি পুকুর ছিল, নাম ছিল ত্রিচুলি। সেগুলো এখন একটাও নেই। তারপর ছিল চাটরা কুণ্ড। সুনীল কুণ্ড এবং উনীল তাল ছিল, সেগুলোও উধাও হয়ে গেছে,' জানিয়েছেন বৃদ্ধ।
প্রসঙ্গত, আউলি থেকে জোশীমঠ যাওয়ার পথে মাঝখানে পড়ে সুনীল কুণ্ড। সাম্প্রতিক ভূমিধসে সেখানকার একাধিক বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে।
ভূতত্ত্ববিদ এমপিএস বিস্ত জানিয়েছেন, এইসব জলাশয় মাটির তলা দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। মাঠ ও জমির কাছাকাছি এলাকা কেঁপে উঠলে তলা থেকে জল উঠে আসবেই। জোশীমঠের মাটির নীচে জলের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। সেখানে আচমকা ঝাঁকুনি লাগলে তা বাড়িঘরে ফাটল ধরা এবং জল চুঁইয়ে ওঠার পিছনে অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
মাধ্যমিকের এবিটিএ টেস্ট পেপারেও ‘আজাদ কাশ্মীর’, বিতর্কে সিপিএমের শিক্ষক সংগঠন