দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সোমবার কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস জানিয়েছিল, তাদের পাঁচ বিধায়ক নিখোঁজ। এমনও জানা গিয়েছিল, তাঁদের তিনজন আত্মগোপন করে আছেন মুম্বইয়ের এক হোটেলে। বিজেপি নেতারা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কিন্তু বুধবার দুপুরে আচমকাই দেখা গেল ‘নিখোঁজ’ বিধায়কদের একজনকে। শোনা গেল, মঙ্গলবারই ফিরে এসেছেন আরও একজন। আগামী শুক্রবারের মধ্যে সকলেই ফিরে আসবেন বলে কংগ্রেসের দাবি।
কর্ণাটকে শাসক জেডি এস-কংগ্রেস জোট এবং বিরোধী বিজেপি, উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ করেছে। অভিযোগ, লোকসভা ভোটের আগে কর্ণাটকে বিধায়ক কেনাবেচা করে বিজেপি রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। তারপর সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে। সেই উদাহরণ দিয়ে বিজেপি প্রচার করবে, জোট সরকার কখনও স্থায়ী হয় না।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী বলেন, নিখোঁজদের তিনজন কোথায় আছে আমি জানি। কংগ্রেসের ‘ট্রাবল শুটার’ বলে পরিচিত ডি কে শিবকুমার বলেন, নিখোঁজ বিধায়কদের কত টাকা অফার করা হয়েছে, তাও আমরা জানতে পেরেছি।
পাঁচ বিধায়ক ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পরে বুধবার বিকালে কংগ্রেস নেতারা এক গেস্ট হাউসে আলোচনায় বসেছিলেন। এমন সময় গেস্ট হাউসের বাইরে দেখা যায় ‘নিখোঁজ’ বিধায়ক ভীমা নায়েককে। তিনি হাগরিবোম্মানাহালির জনপ্রতিনিধি। মঙ্গলবারই ফিরে এসেছেন আরও এক ‘নিখোঁজ’ বিধায়ক আনন্দ সিং।
ভীমা নায়েক বলেন, আমি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। আমার দু’টো নম্বর আছে। তার মধ্যে একটা সুইচড অফ ছিল। তাই হয়তো দলের নেতারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
আগামী শুক্রবার পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, সেদিন সব বিধায়কই উপস্থিত হবেন। প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি এশোয়ার খান্দরে বলেন, শুক্রবার সব এমএলএ-ই আসবেন।
মঙ্গলবার দুই নির্দল বিধায়ক কংগ্রেসের থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছেন। তবে তাতে সরকারের কোনও সমস্যা হবে না বলে দাবি করেছেন কুমারস্বামী। কংগ্রেস ও জেডি ইউ, উভয়েই দাবি করেছে, বিধানসভায় সরকারের যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। কুমারস্বামী বলছেন, তিনি ‘টোটালি রিল্যাক্সড’, অর্থাৎ পুরোপুরি চিন্তামুক্ত।
এর মধ্যে কর্ণাটকের ১০৪ জন বিজেপি বিধায়ককে রাজ্য থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে গুরগাঁওয়ের এক বিলাসবহুল রিসর্টে। দল থেকে জানানো হয়েছে, আগামী লোকসভা ভোটে বিজেপির কৌশল নিয়ে আলোচনা করার জন্যই তাঁদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে অনেকের ধারণা, কুমারস্বামীরা যাতে কোনও বিধায়ককে ভাঙিয়ে নিতে না পারেন, সেজন্যই তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে গুরগাঁওতে।