
শেষ আপডেট: 17 June 2019 18:30
উষসীর কথায়, ‘‘আমাদের চালক গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়। শুরুতে জনা চার-পাঁচ যুবক থাকলেও হঠাৎই লক্ষ্য করি আরও কয়েকজন এসে জুটেছে তাদের সঙ্গে। সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ১৫ তে।’’ বাইকের গতি বাড়িয়ে তারা উবারের পথ আটকায়। চালককে জোর করে গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারতে থাকে। প্রায় জনবিরল, অন্ধকার রাস্তায় চাঁর চিৎকার কার্যতই কারো কানে পৌঁছয় না। উষসী জানিয়েছেন, গোটা ঘটনাটাই তিনি ভিডিও রেকর্ড করেন।
এর পরের অভিজ্ঞতা আরও সাঙ্ঘাতিক। ‘‘ফাঁকা রাস্তা ধরে মরিয়া হয়ে আমি ছুটে চলি ময়দান থানার দিকে। দেখি এক অফিসার দাঁড়িয়ে রয়েছেন। গোটা ঘটনা বলে সাহায্য চাইলে, তিনি প্রথমে মানা করে দেন। তিনি বলেন, ওটা ভবানীপুর থানার ঘটনা। আমি হাতজোড় করে অনুরোধ করি, আপনি চলুন, না হলে ড্রাইভারকে মেরে ফেলবে। উনি গিয়ে ওদের বলেন, ঝামেলা করছ কেন? ওরা অফিসারকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। সব কিছু মিটে যাওয়ার পর ভবানীপুর থানা থেকে দু’জন অফিসার গিয়েছিলেন। আমি ভেবেছিলাম আজ সকালে পুলিশে জানাব।’’
দুর্ভোগের আরও অনেক বাকি ছিল, জানিয়েছেন উষসী। লেকগার্ডেন্সে তাঁর সহকর্মীকে নামাতে যাওয়ার সময় ফের বিপত্তি বাধে। জানিয়েছেন, ওই বাইক আরোহীরা পিছু নেওয়া ছাড়ে নি। ওই দলের মধ্যে ছ’জন তিনটি বাইকে চেপে ফের তাঁদের উবারের অনুসরণ করা শুরু করেন। এ বার নিশানা ছিলেন তিনি নিজে। লেকগার্ডেন্সে গাড়ি থামার পর যুবকরা তাঁকে টেনে নামানোর চেষ্টা করেন। গাড়ি থেকে নামতেই ভিডিও ডিলিট করার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। উষসীর কথায়, “আমার বাড়ি পাশের পাড়াতেই। ফোন করে বাবা ও বোনকে ডাকি। এলাকার বাসিন্দাদের সাহায্য চেয়ে চিৎকার করি। সেটা শুনে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়।”
গোটা ঘটনাতেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন উষসী। তাঁর দাবি, আজ, মঙ্গলবার সকালে চারু মার্কেট থানাতে অভিযোগ লেখাতে গিয়েও তাঁকে হেনস্থা হতে হয়। চারু মার্কেট থানার পুলিশ জানিয়ে দেয় এই কেস ভবানীপুর থানার এক্তিয়ারে পড়ে। সুতরাং ব্যবস্থা নেবেন তাঁরাই। ফেসবুকে উষসী লিখেছেন, ‘‘অনেক তর্কাতর্কির পর চারু মার্কেট থানা একটি এফআইআর নেয়। কিন্তু উবার চালক আলাদা অভিযোগ দায়ের করতে চাইলে পুলিশ মানা করে দেয়। পুলিশের দাবি ছিল, একই অভিযোগে দু’টো এফআইআর নেওয়া আইন বিরুদ্ধ।’’
ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধৃতদের বয়স ২০-২৫ বছরের মধ্যে। পুলিশের অনুমান, যুবকরা মদ্যপ অবস্থায় ছিল। কোনও কারণে উবারের সঙ্গে তাদের বাইকের ধাক্কা লাগে। সেখান থেকেই শুরু হয় বচসা, হাতাহাতি। কলকাতা পুলিশ তাদের টুইটার হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, গোটা বিষয়টাই গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সাত জনকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
"আমি মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স খেতাব জিতেছি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে কলকাতার প্রতিনিধিত্বও করেছি। আমার মতো অনেক মেয়েকেই পেশার স্বার্থে রাত অবধি কাজ করতে হয়। রাতের কলকাতার এমন পরিণতি দেখে আমি মর্মাহত। এটাই কি আমার কলকাতা?" ক্ষোভ উষসীর।