
শেষ আপডেট: 22 April 2022 04:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলের সঙ্গে অশান্তি করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন প্রৌঢ়া। খেয়ে ফেলেছিলেন ঘুমের ওষুধ। ১০-২০টি নয়, একসঙ্গে ৭০টি! বাঁচার আশা ছিলই না। কোমায় চলে গিয়েছিলেন প্রায়। কিন্তু অসাধ্যসাধন করলেন ডাক্তারবাবুরা। খাস কলকাতাতেই, তাও আবার সরকারি হাসপাতালে! টালিগঞ্জের এমআর বাঙুর হাসপাতালের এই ঘটনা যেন এ রাজ্যের চিকিৎসা যাত্রায় এক নয়া মাইলফলক স্থাপন করল (Miracle)।
বাঙুর হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের মেডিক্যাল অফিসার ইনচার্জ ডক্টর অনির্বাণ ভট্টাচার্য জানান, এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। একসঙ্গে ৭০টা ঘুমের ওষুধ খেয়ে এভাবে বেঁচে ফেরার নজির বিশেষ নেই। ছুটি পাওয়ার আগে হাসপাতালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এক ভিডিও বার্তাও দিয়েছেন প্রৌঢ়া। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সকলকে।
১৩ এপ্রিল ওই প্রৌঢ়াকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেন ডাক্তারবাবুরা। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, যে ঘুমের ওষুধ যতটা পরিমাণে তিনি খেয়েছেন, তাতে কোমাচ্ছন্ন অবস্থা থেকে তাঁর ফিরে আসা কার্যত অসম্ভব। কারণ, এই ধরনের ঘুমের ওষুধ এই মাত্রায় খেলে তা সরাসরি শ্বাসযন্ত্রকেই বিকল করে দেয়। হার্ট অ্যাটাক হয়েই রোগী মারা যান।
আশঙ্কাজনক কোমাচ্ছন্ন অবস্থায় সিসিইউতে রোগীকে ভর্তি নিয়ে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়। জীবন ও মৃত্যুর প্রায় মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলেন তিনি। ওই অবস্থাতেই ঘুমের ওষুধের প্রভাব কমাতে একের পর এক অ্যান্টিডোট দেওয়া শুরু করেন চিকিৎসকরা। দেওয়া হয় অন্য ওষুধপত্রও। সেইসঙ্গে চেস্ট ফিজিওথেরাপি করে হৃদযন্ত্র সচল রাখার চেষ্টা করে যান ডাক্তাররা।
টানা ৫ দিন এভাবেই কাটে। এক মুহূর্তের জন্যও মনিটর থেকে চোখ সরানো যায়নি বলতে গেলে। জান লড়িয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যায় ডাক্তারদের গোটা টিম। অবশেষে জ্ঞান ফেরে তাঁর। মিরাকেল (Miracle)! চিকিৎসাবিজ্ঞানের আঙিনায় এ ঘটনা মিরাকেলই বটে। জ্ঞান ফেরার পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন হাসপাতালের নার্সরা। তাঁকে মানসিক ভাবে চাঙ্গা করার চেষ্টা করতে থাকেন। যদিও প্রথমটায় ভেঙে পড়েছিলেন ওই প্রৌঢ়। ছেলের প্রতি, পরিবারের প্রতি তীব্র অনীহা তখনও।
কিন্তু চিকিৎসায় ও কাউন্সেলিংয়ে ধীরে ধীরে বাড়ি ফেরার প্রতি টান বাড়তে থাকে তাঁর। রোজ ভিজিটিং আওয়ারসে ছেলে এসে দেখেও যেত তাঁকে। শেষমেশ ১৯ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছুটি পান তিনি। ফেরেন টালিগঞ্জে নিজের বাড়িতে।
সদ্যোজাত সন্তানের মৃত্যু দেখে হাসপাতাল থেকে বাড়ি গেলেন মা, ৭ দিন পরে ফোন 'দুধ খাওয়াতে আসুন'