
শেষ আপডেট: 14 April 2025 11:51
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির সেই মুর্শিদাবাদেই। গাজন উৎসবে শিবের মাথায় জল ঢালতে এবং ফুল চড়াতে এগিয়ে এলেন সংখ্যালঘু মহিলারাও।
ওয়াকফ সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তাল মুর্শিদাবাদ। লাগাতার চলে মারধর-লুঠপাট-ভাঙচুর। ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে বাবা-ছেলে সহ তিনজনের। আহত একাধিক। বহু এলাকায় রুটমার্চ করছে বিএসএফ। শান্তি ফেরাতে পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্তারাও রয়েছেন মুর্শিদাবাদে। সেই আবহেই সম্প্রীতির এক অনন্য নজির দেখা গেল মুর্শিদাবাদের কান্দিতে।
কান্দির প্রাচীন হোম উৎসব। যা গাজন উৎসব নামেই পরিচিত। বছর শেষে সেই হোম উৎসবে কান্দি শহর পরিক্রমা করেন বাবা রুদ্রদেব। পালকি করে রূপপুর রুদ্রদেব মন্দির থেকে বিগ্রহকে নিয়ে যাওয়া হয় কান্দি হোমতলাতে। সেখানে এক রাত্রি যাপন করে পরের দিন আবার রূপপুরে ফিরে আসেন রুদ্রদেব।
কান্দি শহরের গ্রাম্য দেবতা হিসেবেই তিনি পরিচিত। রবিবার প্রায় ৭০০ বছরের প্রাচীন এই উৎসবে দেখা গেল অনন্য নজির। প্রতি বছর রুদ্রদেবকে নিয়ে যাওয়া হয় কান্দি বিজয়নগর হয়ে হোটেল পাড়ার মধ্যে দিয়ে বিশ্রামতলায়। আর সেই হোটেল পাড়াতেই আছেন কয়েক ঘর সংখ্যালঘু পরিবার। বাবা রূদ্রদেব যখন পালকি করে শহর পরিক্রমা করছেন তখন হোটেল পাড়াতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলারা এসে ফুল দিলেন রুদ্রদেবের পায়ে। এমনকি প্রণামও করলেন। মিশে গেল দুই সম্প্রদায়। ভেদাভেদের ছবিটা পুরোপুরি উধাও।
সাধারণ মানুষ যাতে ঠিক মতো জল ঢালতে পারেন তার জন্য কান্দি থানার আইসি মৃণাল সিনহা নিজে হাতে করে বয়স্ক থেকে ছোট্ট শিশু সবাই কে জল ঢালানোর ব্যবস্থা করেন। মুর্শিদাবাদের প্রাচীন এই হোম উৎসব। হোম উৎসবে সামিল হলেন বহু মানুষ। রীতি মেনে মন্দির থেকে রুদ্রদেবকে একদিনের জন্য পালকি করে কান্দি শহর পরিক্রমা করানো হয় ও তারপরে হোমতলায় নিয়ে গিয়ে রাখা হয়।
শুধু কান্দি নয় এই রুদ্রদেবের হোম উৎসব ঘিরে জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে কান্দিতে আসেন অনেকে। ঐতিহ্যবাহী রুদ্রদেবের হোমকে ঘিরে হাজার হাজার মানুষ উৎসবে সামিল হন। রীতি মেনে নানা অনুষ্ঠান চলে। রবিবার দিনভর রুদ্রদেব ছিলেন হোমতলায়। আজ সোমবার তাঁর ফিরে যাওয়ার পালা।