দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রফিল্যাক্সিস ড্রাগ হিসেবে তো বটেই করোনার সংক্রমণ প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে বা মৃদু সংক্রমণের ক্ষেত্রে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করা যেতে পারে, শনিবার করোনার ক্লিনিকাল ম্যানেজমেন্ট প্রোটোকলে এমনটাই জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। পাশাপাশি, করোনার চিকিৎসায় জরুরি ভিত্তিতে রেমডেসিভির ও টোসিলিজুমাব ওষুধের ব্যবহারের কথাও বলেছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। করোনা রোগীদের চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে প্লাজমা থেরাপিতেই সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে।
করোনা চিকিৎসায় বিশ্বজুড়ে যে ৭০ রকমের ড্রাগ নিয়ে সলিডারিটি ট্রায়াল চলছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে। এই ওষুধের নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা সামনে আসায়, করোনা সারাতে আদৌ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিরাপদ কিনা সেই নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনও তথ্য এখনও মেলেনি। ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল দাবি করেছে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের বেশি ব্যবহারে করোনা রোগীদের মৃত্যুহার বাড়তে পারে। বিশেষ করে হার্ট এরিদমিয়া দেখা দিতে পারে। ল্যানসেটের গবেষণায় বিশ্ব জুড়ে কয়েকশ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯৬ হাজার রোগীর রেকর্ড খতিয়ে দেখে সেই রিপোর্ট সামনে আনা হয়েছিল। একই দাবি করেছে মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনও। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে প্রথমে এই ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করার কথা বললেও পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায় নানা রকমভাবে ওষুধের ট্রায়াল চলছে। তার ফল ভিন্ন হতেই পারে। সেইজন্যই বিজ্ঞানের গবেষণায় কোনও ড্রাগের একবার ট্রায়াল করেই সিদ্ধান্তে আসা ঠিক নয়। তাই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার বন্ধ করারও কোনও প্রামাণ্য যুক্তি নেই।
করোনা সারাতে ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের নির্দিষ্ট গাইডলাইন আছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের। শুরুতে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) তাদের একটি সমীক্ষায় দাবি করেছিল, করোনা রোগীদের সংক্রমণ সারাতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ভূমিকা আছে কিনা সেটা প্রাধান্য বিষয় নয়, বরং হাই-রিস্ক গ্রুপে রয়েছে যাঁরা সেই স্বাস্থ্যকর্মীদের শরীরে সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। সেক্ষেত্রে এই ওষুধের হাই ডোজ কার্যকরী প্রফিল্যাক্সিস ড্রাগ হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে এখন আইসিএমআর জানাচ্ছে, করোনা সংক্রমণ প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যে করোনা রোগীকে এই ওষুধ দেওয়া হবে তার ইসিজি করিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক। হার্টের রোগ, হাইপারটেনশন বা কোনও ক্রনিক রোগ থাকলে এই ওষুধ দেওয়া যাবে না। তাছাড়া রোগীর শারীরিক অবস্থা দেখেই সঠিক ডোজে এই ওষুধ দিতে হবে।

করোনার চিকিৎসায় আরও দুই ওষুধ ব্যবহারে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। বলা হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগ করা যাবে
রেমডেসিভির। এই ওষুধের ক্নিনিকাল ট্রায়ালের ফল সন্তোষজনক বলেই দাবি করেছিল রেমডেসিভিরের নির্মাতা সংস্থা গিলিয়েড সায়েন্সেস। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, রেমডেসিভির আসলে
নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ। এই ওষুধের কাজ হল আরএনএ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেওয়া। দেশে সিএসআইআর-এর অধীনস্থ ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজির ল্যাবরেটরিতে এই ওষুধের উপকরণগুলি বানানোর কাজ চলছে। অন্যদিকে দেশের তিন ড্রাগ নির্মাতা সংস্থা সিপলা, হেটেরো ল্যাব ও জুবিল্যান্ট লাইফসায়েন্সেসের সঙ্গেও এই ওষুধ তৈরির চুক্তি হয়েছে গিলিয়েড সায়েন্সেসের। হায়দরাবাদের ডক্টর রেড্ডি’স ল্যাবরেটরির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে গিলিয়েডের। জানা গিয়েছে, দেশের অন্যতম বড় এই ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিও রেমডেসিভির তৈরির কাজ শুরু করবে।

করোনা সারাতে আরও একটি ওষুধে ভরসা রাখছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। সেটি হল আর্থ্রাইটিসের ওষুধ
টোসিলিজুমাব। টোসিলিজুমাব ড্রাগকে বলা হয়
‘ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট’ ( immunosuppressant)৷ এটি হল একপ্রকার মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি যা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় এই ওষুধ৷ করোনার সংক্রমণে রোগীর শরীরে যে অধিক প্রদাহজনিত রোগ তৈরি হচ্ছে তাকে কমাতে পারে এই ওষুধ। অর্থাৎ সাইটোকাইন স্টর্ম আটকাতে পারে। ডাক্তারদের দাবি এমনটাই। এই টোসিলিজুমাব থেরাপি সাইটোকাইনের অধিক ক্ষরণ বন্ধ করবে, পাশাপাশি, আইএল-৬ (IL-6) নামক প্রোটিন যা রোগীর শরীরে বেশি উত্তেজনা বা প্রদাহ তৈরি করছে তাকে আটকে দিতে পারবে।