
এলাকা পরিদর্শনে মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা
শেষ আপডেট: 1 April 2025 12:42
দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় বিস্ফোরণ-অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই নানাবিধ প্রশ্ন উঠছে পুলিশ-প্রশাসন নিয়ে। প্রশাসন সূত্রে খবর, বাজি তৈরির লাইসেন্স ছিল চন্দ্রকান্তদের। এলাকার বিধায়ক সমীর জানাও সেই একই কথা জানিয়েছেন। তারপর থেকেই এলাকার অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, বাজি তৈরির লাইসেন্স থাকলেও বাড়ির মধ্যে বেআইনি বাজি মজুত করে রাখার লাইসেন্স ছিল কি? থাকলেও তার জন্য যাবতীয় যা নিরাপত্তা নেওয়া দরকার সে সব ছিল কি?
মঙ্গলবার সকালে ঢোলাহাট এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা। বণিকদের পোড়া বাড়ি ঘুরে দেখে যতটুকু যা বুঝেছেন, তাতে তিনি অস্বীকার করলেন না যে লাইসেন্স থাকলেও নিয়ম না মেনেই বাজির ব্যবসা চলছিল। তিনি এও বলেন স্থানীয় বিধায়ক-সহ পুলিশের পদস্থ কর্তারা আদৌ এর সঙ্গে জড়িত কিনা সে ব্যাপারে তাঁর ধারণা অস্পষ্ট। শুধু এটুকু খবর পেয়েছেন, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের দল আসবেন, তখনই ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট পাওয়া যাবে।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আচমকা বিকট শব্দ শোনা যায় পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট (Patharpratima News) থানার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গিয়েছে (Patharpratima Blast) বণিক পরিবারের আট সদস্যের। যাঁদের মধ্যে রয়েছে দুই সদ্যোজাত-সহ চার শিশুও। এই ঘটনায় তুমুল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
দুর্ঘটনার পর দমকল এলাকায় পৌঁছোনোর আগে আগুন নেভাতে তৎপর হন স্থানীয়রা। আগুনের ভয়াবহতা এমনই ছিল যে বাড়ির ভিতরে থাকা মানুষদের বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। এত দিন ধরে বাড়িতে অবৈধ বাজি বানানো হচ্ছে, অথচ পুলিশ-প্রশাসন টের পেল না? দ্য ওয়াল স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে, এলাকাবাসীরা এর আগে রাজ্যে যখন একের পর এক বাজি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে, তখনই বণিক পরিবারকে বাড়িতে মজুত বাজি সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন।
তাতেও কাজ না হলে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ করা হয়। কিন্তু তাঁরাও এ ব্যাপারে খুব একটা উচ্চবাচ্য করেনি। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, ওই বাড়িতে বাজির ব্যবসার জন্য বাইরেরর একাধিক জায়গা থেকে কারিগররা আসতেন।