দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি বিতর্কের ধার ধারেন না। নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেননি কোনওদিন। আর পাঁচজনের কাছে যা অশ্লীল, তাই তাঁর ইউএসপি। নগ্নতাকে শালীন না অশালীন, ঠিক কোন পর্যায়ে ফেলা হবে সে নিয়ে মাথা ঘামাননি একসময়ে ফ্যাশন দুনিয়া কাঁপিয়ে দেওয়া মিলিন্দ সোমান। আর এই বেপরোয়া মনোভাবেরই মাশুল দিতে হচ্ছে তাঁকে।
সমুদ্রসৈকতে নগ্ন হয়ে ছুটে এবং সেই ছবি প্রকাশ্যে এনে অশ্লীলতারই প্রচার করেছেন মিলিন্দ সোমান, এমনই দাবি গোয়া পুলিশের। আর এই অশ্লীল আচরণের জন্যই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে গোয়া সুরক্ষা মঞ্চ নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মিলিন্দের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে গোয়া পুলিশ।
নিজের মতাদর্শে বাঁচেন মিলিন্দ সোমান। সে পেশাগত জীবনেই হোক বা ব্যক্তিগত জীবনে। ৫৫ বছরেও তারুণ্যের তেজ অভিনেতার শরীরে। আর সে নিয়ে যথেষ্ট গর্বিও মিলিন্দ। গুণগ্রাহীদের মুগ্ধ করতে বার বার চমক দিয়েছেন। বিতর্কেও জড়িয়েছেন। তাতে পরোয়া করেননি। ৫৫ বছরের জন্মদিন পালনেও বিধিনিষেধের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছিলেন নিজের মতো করেই। গোয়ার সৈকতে নগ্ন হয়ে দৌড়েছেন, সেই ছবি তুলেছেন তাঁর স্ত্রী অঙ্কিতা। ফিটনেস ফ্রিক মিলিন্দ এই ছবি তাঁর ইনস্টাগ্রাম ও টুইটার হ্যান্ডেলে প্রকাশ্যেও আনেন। ক্যাপশনে লেখেন, "হ্যাপি বার্থডে টু মি। ৫৫ অ্যান্ড রানিং।" এই পোস্টের পরেই শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। মিমের বন্যা বয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
https://twitter.com/milindrunning/status/1323838475800440832
রক্ষণশীলতার সব বেড়াই পেরিয়ে গিয়েছেন মিলিন্দ, এমন অভিযোগ তোলেন অনেকেই। আপত্তি ওঠে গোয়া সুরক্ষা মঞ্চের তরফেও। এই সংগঠনের দাবি, সমুদ্র সৈকতে নগ্ন হয়ে শরীর দেখিয়ে অশ্লীলতাকে উৎসাহ দিয়েছেন মিলিন্দ সোমান। তাঁর এই বেপরোয়া মনোভাব প্রভাব ফেলবে আর পাঁচজনের মনেও।
দক্ষিণ গোয়া পুলিশের সুপারিন্টেন্ডেন্ট পঙ্কজ কুমার সিং বলেছেন, গোয়া সুরক্ষা মঞ্চের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মিলিন্দের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪ (জনসমক্ষে অশ্লীলতার প্রদর্শন) এবং ৬৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মিলিন্দ সোমানের সাম্প্রতিক ছবি ১৯৯৫ সালের সেই দুঃসাহসী মডেলিংয়ের স্মৃতি উস্কে দিয়েছে। একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার জন্য মডেলিংয়ে বান্ধবী, প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া মধু সাপ্রের সঙ্গে নগ্ন হয়ে, গলায় অজগর সাপ ঝুলিয়ে মিলিন্দের সেই ছবি আলোড়ন ফেলেছিল ফ্যাশন দুনিয়ায়। বিজ্ঞাপন সংস্থার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের হয়েছিল, জড়িয়েছিলেন মিলিন্দ সোমানও। ১৪ বছর ধরে সেই মামলা চলার পরে ছাড় পেয়েছিলেন সুপারমডেল।