মাথায় ব্যাগ, কাঁধে শিশুকে নিয়ে টিউবে চড়ে যমুনা নদী পারাপার পরিযায়ীদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো : হরিয়ানায় কাজ করতে গিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের কয়েকশ শ্রমিক। লকডাউনের মধ্যে যমুনা নদী পেরিয়ে বাড়ি ফিরছেন তাঁরা। নৌকা বা অপর কোনও জলযান নেই। টায়ার-টিউবের ভরসা করে তাঁরা পেরোচ্ছেন নদী। অনেকের অনেকের মাথায় আছে ব্যাগ। কাঁধে
শেষ আপডেট: 15 May 2020 17:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো : হরিয়ানায় কাজ করতে গিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের কয়েকশ শ্রমিক। লকডাউনের মধ্যে যমুনা নদী পেরিয়ে বাড়ি ফিরছেন তাঁরা। নৌকা বা অপর কোনও জলযান নেই। টায়ার-টিউবের ভরসা করে তাঁরা পেরোচ্ছেন নদী। অনেকের অনেকের মাথায় আছে ব্যাগ। কাঁধে আছে শিশুপুত্র বা কন্যা। ওই অবস্থায় টিউবের ওপরে ভরসা করে তাঁরা নদী পেরিয়েছেন।
উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার সীমান্তে কয়েক জায়গায় আছে যমুনা নদী। লকডাউনের জন্য রাজ্যের সীমান্ত বন্ধ। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যেতে গেলে পারমিট লাগে। শ্রমিকদের কাছে সেই অনুমতিপত্র নেই। বিহার থেকে আসা এক পরিযায়ী শ্রমিক বলেন, “আমাদের আর কোনও উপায় নেই। আমাদের চাকরি চলে গিয়েছে।” শ্রমিকরা দফায় দফায় টায়ার-টিউবের ভরসায় নদী পেরোচ্ছেন। ওই শ্রমিক বসেছিলেন নদীর পাড়ে। অপেক্ষা করছিলেন কখন যমুনা পেরনোর সুযোগ পাবেন।
বৃহস্পতিবার কয়েকজন শ্রমিক যমুনানগর জেলা থেকে নদী পেরিয়ে উত্তরপ্রদেশের কাইরানা শহরে পৌঁছেছেন। অনেকে কারনাল জেলা থেকে যাত্রা করে উত্তরপ্রদেশ হয়ে বিহারে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
মার্চের ২৫ তারিখ থেকে সারা দেশে লকডাউন জারি হয়েছে। হাজার হাজার শ্রমিক কর্মস্থল থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছেন। সেজন্য তাঁদের শত শত কিলোমিটার পাড়ি দিতে হচ্ছে। অনেকে ক্লান্তিতে অথবা দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন।

পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আইনজীবী অলোক শ্রীবাস্তব সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানান, যে পরিযায়ী শ্রমিকরা হেঁটে বাড়ি ফিরছেন, তাঁদের ব্যাপারে বিচারপতিরা কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিন। সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের চিহ্নিত করুক। তাঁদের জন্য খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করুক। মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে আইনজীবী বলেন, সেখানে ১৬ জন শ্রমিক রেললাইনের ওপরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের ওপর দিয়ে মালগাড়ি চলে গিয়েছিল। বিচারপতিরা বলেন, “মানুষ হাঁটছেই। তারা থামছে না। আমরা কীভাবে তাদের থামাব?” ট্রেন দুর্ঘটনা সম্পর্কে বিচারপতিরা বলেন, “কেউ রেললাইনের ওপরে ঘুমিয়ে পড়লে কীভাবে দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে?” বিচারপতিদের বক্তব্য, কেবল খবরের কাগজ পড়েই ওই আইনজীবী কোর্টে আবেদন করেছেন। তাঁদের কথায়, “আইনজীবীরা খবরের কাগজ পড়ে সবকিছু জানেন। আপনারা চান, আদালত সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিক। এ ব্যাপারে রাজ্যের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেন? আমরা কি আপনাদের স্পেশাল পাস দেব। আপনারা কি সরকারের নির্দেশ কার্যকর করতে পারবেন?”