
শেষ আপডেট: 23 October 2024 12:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: রাত পোহাতেই দিঘা ছাড়ার ধুম। তাই মন খারাপ পর্যটকদের। তিন-চার দিন সমুদ্রের ধারে থাকার বাসনা নিয়ে দিঘা গিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশে সৈকত নগরী ছেড়ে আসতে হচ্ছে তাঁদের।
ক্যানিং থেকে আসা পর্যটক রাখি সরকার বলেন, "কয়েকটা দিন থাকার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু তা সম্ভব হল না। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ঘূর্ণিঝড় দানার কারণে বুধবার দুপুরের মধ্যে দিঘা ছাড়তে হবে। মনটাই তাই খারাপ হয়ে গেল।"
আরেক পর্যটক প্রশান্ত ভুঁইয়া বলেন,"দিঘায় সমুদ্রের ধারে ছুটি কাটাতে এসেছিলাম। কিন্তু সকাল সকালই বাস ধরে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। আনন্দটাই মাটি হয়ে গেল ঘূর্ণিঝড়ের কারণে।"
শুধু দিঘা নয়, ঘূর্ণিঝড় দানার জন্য সতর্কতা জারি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের মন্দারমনি, তাজপুর, হলদিয়া সহ সমুদ্র উপকূলের অন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেও। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সরিয়ে ফেলার ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রশাসনিক আধিকারিকরা দিঘা শংকরপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে।তারপরেই জানিয়ে দেওয়া হয়, বুধবার দুপুরের মধ্যে দিঘা থেকে পর্যটকদের চলে যেতে হবে।
প্রশাসনের ঘোষণার পরেও অবশ্য বুধবার সকালে আবহাওয়া তেমন খারাপ না হওয়ায় সমুদ্রের ধারে ভিড় জমান পর্যটকরা। দুপুরের মধ্যে হোটেল খালি করতে হবে। তাই তার আগে যতটুকু উপভোগ করা যায় সুযোগ ছাড়তে চাননি কেউ। তাই সকাল দিঘায় পর্যটকদের ভিড় ছিল সমুদ্রে। তারপরেই বিষন্ন মনে বাড়ির পথ ধরেন তাঁরা।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক জানান, স্থানীয় মানুষ থেকে পর্যটকরা যাতে কোনও রকম সমস্যায় না পড়ে তার জন্য উপকূল এলাকা থেকে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাঝি আধিকারিকদের নিয়ে সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখছেন। ইতিমধ্যে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের কর্মী ও এনডিআরএফ এর জওয়ানরা উপকূলে নেমেছে। বেলা বাড়তেই দিঘার আবহাওয়াও ধীরে ধীরে বদল হতে শুরু হয়েছে। মেঘলা হচ্ছে আকাশ। সমুদ্রের ঢেউও উত্তাল হতে শুরু হয়েছে।