
সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে ওঠা হল না তিনজনের। নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 13 July 2024 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো,পশ্চিম মেদিনীপুর: সেপটিক ট্যাঙ্কে নেমেছিল এক নাবালক। উঠে না আসায় খোঁজ করতে নামেন দুই প্রৌঢ়। তাঁরাও আর কেউ উঠে আসতে পারেননি। পরে পুলিশ পৌঁছলে শুরু হয় উদ্ধার কাজ। তিনজনকেই ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। খবর আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনরা।
পুলিশসূত্রে জানা গেছে, মৃতদের নাম সুজন সরেন (১৫), বদ্রীনাথ হেমব্রম (৫৮) ও বাপি বাস্কে (৪৫)। সুজনের বাড়ি শ্রীরামপুরে। বাকি দুজনের বাড়ি ডেবরা ব্লকের চকরাধাবল্লভ গ্রামে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এদিন সকালে ওই সেপটিক ট্যাঙ্কে নেমেছিল নাবালক সুজন সরেন। বেশ কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পরেও ওই কিশোর উঠে না আসায় ষাটোর্ধ এক ব্যক্তি বদ্রীনাথ হেমব্রম তাঁকে উদ্ধার করতে নামেন। এরপর তিনিও উঠে না আসায় আরেক ব্যক্তি বাপি বাস্কে ট্যাঙ্কে নামেন। পরপর তিনজন ট্যাঙ্কে নামলেও কেউ আর ওপরে উঠে আসতে পারেননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবগারি দফতরের হাত থেকে বাঁচতে চোলাই মদের কারবারিরা সেপটিক ট্যাঙ্কে মদ তৈরির সরঞ্জাম ও বিভিন্ন জিনিস লুকিয়ে রেখেছিলেন। সেই সমস্ত জিনিস তুলে আনতে গিয়েই বিপত্তি বাঁধে। প্রাণ দিতে হয় তিনজনকে। শনিবার এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় চকরাধাবল্লভ গ্রামে।
জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ শান্তি টুডু বলেন, "এই মর্মান্তিক ঘটনা শোনার পরেই আবগারি দফতরের আধিকারিকদের কাছে আমরা পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছি। চোলাই মদের কারবার করে এই এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষজন আরও শেষ হয়ে যাচ্ছেন। তাই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। না হলে এমন দুঃখজনক ঘটনা আটকানো যাবে না।"
ঘটনার খবর ছড়াতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ডেবরা থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ পৌঁছে তিনজনকে উদ্ধার করে ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নেমে এই দুর্ঘটনা, না এর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।