
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধে উদ্বেগ
শেষ আপডেট: 23 November 2024 17:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: গত কয়েকমাস ধরে মিলছে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। অভিযোগ এমনটাই। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তমলুক শহরের কয়েকশো মহিলা। স্বর্ণলতা বেরা, রিমি মহাপাত্র, পুতুল সিংহরা জানান, প্রতিমাসেই তাঁরা অপেক্ষা করছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকবে। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। আদৌ আর টাকা মিলবে তো! যত দিন যাচ্ছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে।
তাঁরা অভিযোগ করেন, কাঁথি ও তমলুক লোকসভা আসনে বিজেপি জয়ী হওয়ার পর তৃণমূলের অনেক নেতা বিভিন্ন সভা মঞ্চ থেকে লক্ষ্মী ভাণ্ডার বন্ধের হুঁশিয়ারি ছিলেন। সে কারণেই কি ধীরে ধীরে বন্ধ হচ্ছে টাকা! আবার ট্যাব জালিয়াতির মতো টাকা অন্য কোথাও চলে যাচ্ছে কিনা, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছেন বাসিন্দারা।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। ২০২০ সালে দুয়ারে সরকার কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর শুরু হয় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। মূলত মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে মাসিক ৫০০ টাকা দেওয়া হলেও পরে তা বাড়িয়ে ১০০০ টাকা ও ১২০০ টাকা করা হয়।
এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বেশ কয়েক মাস মিলছে না বলে অভিযোগ তাম্রলিপ্ত পুরসভার মহিলাদের। তাঁরা জানান, ভাতা না পাওয়া মহিলাদের তালিকা ক্রমশ বাড়ছে। কী কারণে এই টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকছে না ব্যাঙ্ক ও পুরসভার আধিকারিকরা কেউ তার সদুত্তর দিতে পারেননি। অন্যান্য প্রাপকরা প্রকল্পের টাকা পেলেও কেন কিছু মহিলা টাকা পাচ্ছেন না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
বিষয়টি নজরে এসেছে তাম্রলিপ্ত পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়ের। তিনি বলেন, "টেকনিক্যাল সমস্যা ও ব্যাঙ্কের কিছু সমস্যা হতে পারে। আমরা বিষয়টি রাজ্য সরকারকে জানিয়েছি। দ্রুত সমাধান করা হবে।"
তবে বিজেপির তমলুক নগর মণ্ডলের সভাপতি সুকান্ত চৌধুরী অভিযোগ করেন, লোকসভা ভোটের পরে অনেকই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, "ভোট পাওয়ার জন্য এই সরকার মানুষকে ভাওতা দিচ্ছে। ধীরে ধীরে এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আর দিতে পারবে না, বিভিন্ন জায়গায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।"
অপর দিকে ট্যাব দুর্নীতির মতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাও অন্য কোনও অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে কিনা সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। কারণ অতি সম্প্রতি খবরের শিরোনামে এসেছে তথ্য হাতিয়ে স্কুল ছাত্রদের ট্য়াব কেনার জন্য সরকারি বরাদ্দের টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়া একটি চক্রের কার্যকলাপ। সবকিছু মিলিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা অ্যাকাউন্টে না ঢোকায় নিজেদের মতো করে কারণ খুঁজছেন তমলুকের মহিলারা।