বর্ষার কাদা প্যাচপ্যাচে পরিস্থিতিতে অবস্থা আরও শোচনীয়। আগেও এর মাসুল দিয়েছেন প্রসববেদনায় থাকা রোগী।

শেষ আপডেট: 9 July 2025 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খারাপ রাস্তায় ঢুকতে পারে না অ্যাম্বুলেন্স। বর্ষার কাদা প্যাচপ্যাচে পরিস্থিতিতে তার অবস্থা আরও শোচনীয়। আগেও এই চরম অচলাবস্থার মাসুল দিয়েছেন প্রসববেদনায় থাকা রোগিনী।
পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের ২ নম্বর গ্রাম রাজ অঞ্চলের সানদেউলি এলাকায় এবার দেখা গেল, বাঁশের ডুলিতে করে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বয়স্ক এক রোগিনীকে। নেপথ্যে রাস্তার সেই বেহাল দশা। মহিলাকে চাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় কাদায় বসে যাচ্ছে পা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও।
অভিযোগ, রাস্তা এতটাই বেহাল যে কোনও বাইক বা চার চাকার গাড়ি ঢুকতে চাইছে না সানদেউলি গ্রামে। জানা গিয়েছে, গ্রামরাজ অঞ্চলের সানদেউলি গ্রামে প্রায় ৮০০ মিটার রাস্তার বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলেই রাস্তা দিয়ে কোনও যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে চলাচলেও দুর্ভোগ বাড়ে।
এই গ্রামেরই বাসিন্দা সরস্বতী সামোট নামে বছর ৬৫ এক বৃদ্ধার হার্টের সমস্যা ছিল। তিনি হঠাৎই অসুস্থ হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু কাঁচা রাস্তায় অ্যাম্বুল্যান্স না ঢোকায় বাধ্য হয়ে রোগীকে ডুলিতে বসিয়ে বাঁশে দড়ি বেঁধে কাঁধে ঝুলিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রওনা হন পরিজনরা।
গত ২২ মে, প্রসববেদনা ওঠায় স্থানীয় হাসপাতালে প্রসূতিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা হলেও, কাদায় আটকে যায় চাকা। অবশেষে রাস্তাতেই শিশুর জন্ম দেন ওই মহিলা। সেই ঘটনার পর আবার ৯ জুলাই, একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি। এবার হয়রানির শিকার অসুস্থ এক বয়স্ক মহিলা। সময়, তারিখ বদলালেও পরিস্থিতি এখনও রয়েছে সেই তিমিরেই। বর্ষায় সেই ভোগান্তি বেড়েছে বই কমেনি।
দিনের পর দিন এই একই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে করতে তিতিবিরক্ত স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের কথায়, এ যেন রোজকার এক যন্ত্রণা হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে নান্টু কুইলা নামে এক বাসিন্দা বলেন, এই রাস্তা নিয়ে ব্লক প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের বারংবার জানানো হয়েছে। তারপরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। যার ফলে এলাকার রোগী থেকে শুরু করে স্কুল ছাত্র-ছাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। ব্লক প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা।
ওই পথেই যাতায়াত করতে হয় তাঁদের। ফলে সেই রাস্তার বেহাল দশায় হয়রানির শেষ নেই সাধারণ মানুষের। এদিকে এ ব্যাপারে নারায়ণগড় বিধানসভার বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট জানিয়েছেন, বাড়ি হয়তো অনেকটা ভিতরে। যেখানে হয়তো রাস্তা অনেকটা সরু। এটা দুঃখজনক, বিষয়টি আমি দেখছি।