
ধৃত ব্যাঙ্ক ডাকাত
শেষ আপডেট: 4 December 2024 10:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: মঙ্গলবার গভীর রাতে রীতিমতো ফিল্মি কায়দায় তিন দুর্ধর্ষ ব্যাংক ডাকাতকে গ্রেফতার করল পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর থানার পুলিশ। পুলিশ পৌঁছেছে টের পেতেই সমবায় ব্যাঙ্কের দোতলা ছাদ থেকে ডাকাতরা একে একে লাফ দিয়ে নীচে দাঁড়িয়ে থাকা মারুতি গাড়িতে করে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
পুলিশ পিছু ধাওয়া করে গাড়িটির। মারুতি ভ্যানের পেছনে ধাক্কা মারে পুলিশ ভ্যানটি। ডাকাতদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি লাইটপোস্টে ধাক্কা মারে। গাড়ি থেকে তিন ডাকাতকে ধরে ফেলে পুলিশ। হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে চার ডাকাত চম্পট দেয়। তবে ডাকাত দলের মূল দুই পান্ডা পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গল এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন সাহা ও নুরুদ্দিন মল্লিক গাড়ির ধাক্কায় অল্প জখম হওয়ায় ঘটনাস্থলেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে। আরও এক ডাকাত এহসান মল্লিককে গ্রামবাসীদের সাহায্যে ধরে ফেলে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে ডাকাতির বিভিন্ন ম্যাপ, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের তালা কাটার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটে রামনগর থানা এলাকার সত্যেশ্বরপুর সমবায় ব্যাঙ্কে। রাত দেড়টা নাগাদ শাটারের তালা কেটে ব্যাঙ্কে ঢোকে ডাকাতদল। সেই সময় পথ চলতি এক ব্যক্তি ব্যাঙ্কের নীচে গাড়ি দেখে ও গভীর রাতে ব্যাঙ্কের ভিতর থেকে শব্দ শুনে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তখন ব্যাঙ্কের ভিতরে ডাকাতরা। পুলিশ সিঁড়ি দিয়ে উঠছে টের পেয়ে দোতলা থেকে একে একে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল তারা।
রামনগর থানার ওসি অমিত দেব জানিয়েছেন, তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা হচ্ছে না। তবে এর পেছনে বড়সড় গ্যাং রয়েছে। পুলিশ হেফাজতে পাওয়ার পর জোরদার তদন্ত চালানো হবে। তবে বিশেষ ধরণের জুতো পরে ডাকাতি করতে এসেছিল তারা। ডাকাতদের পায়ে বিশেষ জুতোর ব্যবস্থা ছিল বলেও জানা গেছে।
সমবায় সমিতির সম্পাদক সুকুমার পাঁজা জানিয়েছেন, পুলিশের ভূমিকা খুবই প্রশংসনীয়। সময়ে পুলিশ আসাতেই ডাকাতি রোখা গিয়েছে।