
গোপাল মণ্ডল।
শেষ আপডেট: 4 May 2024 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মেদিনীপুর: ২৬ মে ষষ্ঠ দফায় ভোট হবে ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে। ঘাটালের ভোটে এবারে তারকার ছড়াছড়ি।
তৃণমূলের তরফে বিদায়ী সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব আগেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। শুক্রবার মেদিনীপুরে জেলাশাসকের অফিসে মনোনয়ন জমা দিতে এসেছিলেন বিজেপির হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং সিপিআইয়ের তপন গঙ্গোপাধ্যায়ও।
মনোনয়ন জমা দিতে এসেছিলেন আরও একজন। তিনি ঘাটালের রঘুনাথচকের বাসিন্দা গোপাল মণ্ডল। রীতিমতো ব্যান্ডপার্টি সহযোগে জেলাশাসকের অফিসে ঢুকেছিলেন তিনি। সঙ্গীরা বেশ কিছুক্ষণ বাজনাও বাজালেন। কিন্তু গোপালবাবুর মনোনয়ন জমা দেওয়া হল না! উল্টে সঙ্গীদের সঙ্গে জেলাশাসকের অফিসের মধ্যেই গোলমাল বেঁধে গেল হবু প্রার্থীর!
ব্যাপারটা কী?
ঘাটালের হবু প্রার্থী গোপালবাবুর (২০১৪ সালের ভোটেও নির্দল হিসেবে লড়েছিলেন) দাবি, "ভোটে লড়তে গেলে কমিশনের কাছে আগে ২৫ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। সেই টাকা জমাও দিয়েছি। এছাড়াও মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় ১০ জন প্রস্তাবক দরকার হয়, যাঁরা সমর্থন জানিয়ে সই করবেন। সেজন্য ১০ জনকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে নিয়েও এসেছিলাম। কিন্তু ওরা এখন বলছে, সই করতে পারবে না!"
গোপালের সঙ্গে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদেরই অন্যতম জীতেন দাস। গোপালবাবুর অভিযোগ উড়িয়ে জীতেন বলেন, "মিথ্যে বললে জিভ খসে যাবে! আমরা বাজনা বাজিয়ে খাই। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বাজনা বাজানোর কথা বলে আমাদের এখানে এনে এখন গোপাল বলছে প্রস্তাবক হিসেবে সই করতে। সেটা আমরা কেন করব?"
বচসা থেকে রীতিমতো হাতাহাতি হওয়ার জোগাড়। পরে জেলাশাকের কার্যালয়ে সেই সময় উপস্থিত থাকা পুলিশের কর্মী এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
আক্ষেপের সুরে পেশায় ব্যাঙ্ক কর্মী গোপাল বলেন, "ওরা এখানে এসে পাল্টি খেয়ে গেল! ফেঁসে গেলাম, এবারে আর মনে হয় ভোটে দাঁড়ানো হবে না।"
নিজেই জানালেন ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে ৫ হাজারের বেশি কিছু ভোট পেয়েছিলেন।
ভোটে দাঁড়ান কেন? গোপালের কথায়, "দেব, হিরণরা কেউই তো স্থানীয় নয়। মানুষ তো ভোটের পর ওদের টিকিও খুঁজে পাবে না। আমি জিতলে মানুষ বছরভর পাবে। যদি জিততে পারি, সারা বছর মানুষের কাজ করতে পারব- সেই আশাতেই ভোটে দাঁড়ানো।"