শিবে পাত্রর বাড়ি থেকে দোকান, সবই আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের রঙে সাজানো, চায়ের দোকানের দেওয়ালে টানানো মেসির শতাধিক ছবি। রাতের ঘুমে নয়, জেগে জেগেও স্বপ্ন দেখতেন, একবার চর্মচক্ষে দেখবেন তাঁর ঈশ্বরকে। অবশেষে কুড়ি বছরের সেই কঠিন অপেক্ষার অবসান ঘটেছে।

শেষ আপডেট: 13 December 2025 17:59
এ যেন ধ্রুবর তপস্যা। নিষ্ঠার সঙ্গে তপস্যা করে ভগবান বিষ্ণুর দেখা পেয়েছিলেন ধ্রুব। তাঁর মাথায় হাত রেখেছিলেন বিষ্ণু। শনিবাসরীয় যুবভারতীতে হাজার হাজার ভক্ত টিকিট কেটে মাঠে ঢুকেও মেসির (Messi in Kolkata) দেখা পেলেন না, তখন মেসি দেখা দিলেন ‘শিবে দা-কে’ (Shibe da Ichapur)। ফারাক শুধু একটাই। শিবের মাথায় মেসি নয়, মেসির মাথায় হাত রাখলেন শিবে।
এই শিবেদা পটলডাঙার টেনিদার মতো কাল্পনিক কোনও চরিত্র নয়। তিনি ইচ্ছাপুরে থাকেন। চা বিক্রি করেন। আর সারা বছর ধরে মেসির উপাসনা করেন। এদিন সেই সাধনারই ফল পেলেন। অবশেষে শিবে-মেসিতে সাক্ষাৎ হল শনিবারে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে মেসিকে নিয়ে আকাশছোঁয়া উন্মাদনা ছিল গোটা শহরজুড়ে। শিবে দাও সারারাত ঘুমোতে পারেননি। কখন সকাল হবে। গরম জলে স্নান করে ভোর ভোর ছুটবেন কলকাতায়।দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে মেসির জন্য অগাধ ভালোবাসা ও পাগলামিতে মেতে ছিলেন ইছাপুরের নবাবগঞ্জের শিবে পাত্র। প্রতি বছর মেসির জন্মদিনে তাঁর বয়সের সমান ওজনের কেক কেটে গরিবদের মধ্যে বিলি করেছেন শিবে। সারাবছর চায়ের দোকানের আয় থেকে টাকা বাঁচিয়ে মেসির নামে ফুটবল টুর্নামেন্ট করেছেন।
শিবে পাত্রর বাড়ি থেকে দোকান, সবই আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের রঙে সাজানো, চায়ের দোকানের দেওয়ালে টানানো মেসির শতাধিক ছবি। রাতের ঘুমে নয়, জেগে জেগেও স্বপ্ন দেখতেন, একবার চর্মচক্ষে দেখবেন তাঁর ঈশ্বরকে। অবশেষে কুড়ি বছরের সেই কঠিন অপেক্ষার অবসান ঘটেছে।
বাবার মেসি প্রেম নাড়া দিয়েছিল মেয়ে নেহাকেও। তাই এবার কলকাতায় এই আন্তর্জাতিক ফুটবলারের আসা নিশ্চিত হতেই উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন তিনি। একবার যদি মেসির সামনে দাঁড় করানো যায় বাবাকে।
সেই চেষ্টা সফল হয়েছে। শনিবার সাত সকালে হায়াতে পৌঁছে গিয়েছিলেন শিবে পাত্র। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর বাড়ির একটি ছবি। স্বপ্নের নায়ককে দেখে তাঁর মাথায় হাত রেখেছেন। পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন। মেসি তার হাত থেকে সেই ছবি নিয়ে তাতে সই করে দিয়েছেন। ব্যাস স্বপ্নপূরণ।
বাড়ি ফিরে আবেগে ভেসেছেন শিবে পাত্র। বললেন, "জীবনে আর কিছু না হলেও চলবে, আজ আমি মরে গেলেও শান্তি পাব। মেসি আমার ছবি নিয়েছেন, আমার কথা শুনেছেন – এর থেকে বড় আর কিছু হতে পারে না।" তবে বড় গন্ডগোল চলছিল, তাই কথাটা আর বলা হল না স্বপ্নের নায়কের সঙ্গে।
যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলার জন্য এদিন গ্রেফতার করা হয়েছে মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে (Satadru Dutta)। তবে শতদ্রু কিন্তু কথা রেখেছেন। তিনি কথা দিয়েছিলেন, মেসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করাবেন শিবে দা আর পকেট পরোটার জন্য বিখ্যাত রাজু দাকে। শিবের স্বপ্নপূরণের নায়ক কিন্তু শতদ্রুই।