দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় লকডাউন জারি সারা দেশে। সপ্তাহ কয়েক আগে থেকেই বারবার সামনে এসেছিল উত্তর ভারতের দূষণ কমে যাওয়ার চিত্র। কয়েক দিন আগেই দিল্লির কোনও কোনও এলাকা বরফপাতে সাদা হয়ে গেছিল। এরই মধ্যে আবার আচমকা তীব্র তাপপ্রবাহে জেরবার মানুষ!
সতর্কতা ছিল আগে থেকেই। আইএমডি জানিয়েছিল, উত্তর ভারতের বেশ কিছু জায়গায় তাপমাত্রা বাড়তে পারে অনেকটা। তার জেরে তাপপ্রবাহ চলতে পারে। আজ, মঙ্গলবার দিল্লি, পঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় এবং রাজস্থানে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর চলে যাওয়ার সতর্কতা জারি হয়েছে ফের। রাজধানী দিল্লিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪৬ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছেছে। তা বেডে় ৪৭.৫ হতে পারে বলে আশঙ্কা।
রাজস্থানের পরিস্থিতিও প্রায় একই রকম। বেশিরভাগ এলাকায় সারাদিনের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। পঞ্জাব ও হরিয়ানাতেও প্রায় একই অবস্থা। পঞ্জাবের পাতিয়ালায় সর্বোচ্চ ৪৩.৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। অমৃতসর ও লুধিয়ানায় সর্বাধিক ৪২.৮ ও ৪৩.১ ডিগ্রি তাপমাত্রা পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। হরিয়ানার হিসারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫.৮ ডিগ্রি ও ভিওয়ানি ও করনালে সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রিতে পৌঁছয়।
উত্তরপ্রদেশের বারাণসী, অযোধ্য়া ও লখনউতে তাপমাত্রার দ্রুত বৃদ্ধি হয়েছে। প্রয়াগরাজেও ৪৬.৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা উঠেছে। প্রায় গোটা উত্তর ভারত জুড়ে বইছে তীব্র লু। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী কয়েক দিন এই পরিবেশ বজায় থাকবে।
তবে, কিছু এলাকায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। অনেক জায়গায় ২৯-৩০ মে ঝড় ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাতে তাপপ্রবাহের প্রকোপ থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। তবে রাজস্থানের পূর্বাভাস বলছে, জোধপুর থেকে শুরু করে বিকানের, জয়পুর, আজমেঢ়, ভরতপুর ও কোটায় লু-এর প্রকোপ আরও তীব্র হতে পারে। সেই সঙ্গে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে এই সব এলাকায় হাল্কা বৃষ্টিও হতে পারে।
আজ, মঙ্গলবার এই তাপপ্রবাহের তীব্রতা শীর্ষে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা। আইএমডি দিল্লিতে ইতিমধ্যেই অরেঞ্জ অ্যালার্ট বা কমলা সতর্কতা জারি করেছে।
https://twitter.com/RWFC_ND/status/1264920485990551552
আইএমডি-র দিল্লির সেন্টারের প্রধান কুলদীপ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, নতুন করে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা তৈরি হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে তাপপ্রবাহ কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তার পরে আবার শুক্রবার ও শনিবার দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ধুলোর ঝড় ও বজ্রপাত-সহ বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে আবহাওয়ার এই গতিপ্রকৃতি যেন রীতিমতো খামখেয়ালি ও দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর ভারতে এসময়ে সাধারণত যেমন আবহাওয়া থাকে, এ বছরে তা অনেকটাই মনোরম ছিল দীর্ঘ লকডাউনের কারণে। আচমকা তাপপ্রবাহ আবার বিপদ বাড়াল।