দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ২২ অগাস্ট ইন্দোরের গোবিন্দ নগর এলাকায় এক চুড়ি বিক্রেতাকে (Bangle Seller) মারধর করা হয়। অভিযোগ, তসলিম আলি নামে ওই চুড়িবিক্রেতা নিজের মিথ্যা পরিচয় দিয়েছিলেন। মারধরের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তসলিম আলিও গ্রেফতার হন। অভিযোগ, তিনি এক নাবালিকাকে অবাঞ্ছিতভাবে স্পর্শ করেছিলেন। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে জালিয়াতির অভিযোগ। ফেসবুকে ওই গ্রেফতারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন কয়েকজন। পুলিশ তাঁদেরও গ্রেফতার করেছে। সোমবার মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র বলেন, যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ রয়েছে।
প্রতিবাদীদের একজনের নাম আলতামাস খান। নরোত্তম মিশ্রের দাবি, তিনি সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএমের সদস্য। পুলিশ মোট চারজন প্রতিবাদীকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার করেছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল ইন্দোরে দাঙ্গা বাঁধানো।
সাংবাদিক বৈঠকে নরোত্তম মিশ্র বলেন, “তদন্তে যা প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তাতে বোঝা যায়, আলতামাস খানের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগযোগ আছে। তিনি চুড়ি বিক্রেতাকে মারধরের পরে ইন্দোরের এক থানার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন।” মন্ত্রী জানান, আলতামাস খানের কাছে যে নথিপত্র পাওয়া গিয়েছে, তাতে বোঝা যায়, মধ্যপ্রদেশের শান্তিভঙ্গ করাই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল। চারজনকে জেরা করা হচ্ছে।
আলতামাস খান বাদে অপর যে তিনজন প্রতিবাদী গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁরা হলেন মহম্মদ ইমরান আনসারি, জাভেদ খান ও সৈয়দ ইরফান আলি। তাঁদের বয়স ২০ থেকে ৩০-এর মধ্যে।
চুড়িবিক্রেতাকে মারধরের পরেই নরোত্তম মিশ্র বলেছিলেন, "কেউ নিজের নাম, জাত ও ধর্মের পরিচয় গোপন করলে তিক্ততা সৃষ্টি হবেই।" একইসঙ্গে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক রং চড়ানো উচিত নয়।
মন্ত্রীর কথায়, "অভিযুক্ত ব্যক্তি হিন্দু নাম ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর কাছে দু'টি পৃথক আধার কার্ড ছিল। তিনি চুড়ি বিক্রি করতে এসেছিলেন। আমাদের মেয়েরা ওই চুড়ি পরে। পরিচয় গোপন করা নিয়ে তাঁর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের বিবাদ শুরু হয়।"
চুড়িবিক্রেতাকে মারধরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, রাস্তায় অনেক চুড়ি ছড়িয়ে আছে। যুবকটি চুড়িগুলি ব্যাগে ভরে নিচ্ছে। তখন একজনকে বলতে শোনা যায়, যা পার ব্যাগে ভরে নাও। এই এলাকায় যেন তোমাকে আর কখনও না দেখি। পরে সেই ব্যক্তিই জনতাকে বলেন, ছেলেটিকে মারধর দাও। তখন তাঁর টি শার্টের কলার ধরে কয়েকজন টেনে আনে। চার-পাঁচজন তাঁকে মারতে থাকে। ওইসময় ফেরিওয়ালার চুড়িগুলি ভেঙে দেওয়া হয়। পরে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তাঁর থেকে ১০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
