
শেষ আপডেট: 30 May 2023 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতি সামান্য কম্পন (earthquake)! কাঁপুনির সঙ্গে তুলনা করলে বলা যায়, ওই সামান্য শিরশিরানি। রিখটার স্কেলে মাত্রা ৩.৮। জাপান-টাপানে হলে, লোকে সংখ্যাটা শুনে হয়ত ‘ওহ এই ব্যাপার’ বলে নিজের কাজে চলে যেত। কিন্তু দেশটার নাম অস্ট্রেলিয়া (Melbourne)। ফলে এতেই নাকি কার্যত হইচই পড়ে গিয়েছে মেলবোর্ন জুড়ে! রিকি পন্টিং, স্টিভ ওয়, ডেভিড ওয়ার্নারদের দেশে বলাবলি হচ্ছে, মেলবোর্নে নাকি ১২০ বছরে এত বড় ভূমিকম্প হয়নি!
অস্ট্রেলিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ‘জিওসায়েন্স অস্ট্রেলিয়া’ জানাচ্ছে, প্রাথমিকভাবে তাঁদের ধারণা, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র বা এপিসেন্টার মেলবোর্ন শহরের উত্তরে সানবারি বলে একটি ছোট শহর। মাটির প্রায় দুই কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎস। রাত প্রায় ১১.৪১ মিনিটে প্রথম কম্পন অনুভূত হয় সেখানে। গোটা মেলবোর্ন শহরেই অল্পবিস্তর কম্পন অনুভব করেছেন বাসিন্দারা।
সংস্থার মুখ্য বৈজ্ঞানিক অ্যাডাম পাসক্যাল টুইটারে লেখেন, ‘ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। যদিও মাত্র ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের অল্প কাঁপুনি। কিন্তু তাতেই অ্যাড্রেনালিন অনুভব করছি এখনও…’।
বস্তুত, ভূতাত্ত্বিকদের মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প হয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় বলয় বা প্যাসিফিক রিম অফ ফায়ারের চারপাশের সন্নিহিত অঞ্চলে। ইন্দোনেশিয়া থেকে জাপান, এমনকি ভারতের ব্যারেন দ্বীপও এই আগ্নেয় বলয়ে পড়ছে। অত্যন্ত অস্থির এই সুবিশাল এলাকাটি কার্যত গোটা প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশকে অস্থির করে রেখেছে। হাওয়াই দ্বীপের মৌনা লোয়া, দক্ষিণ আমেরিকার কটোপ্যাক্সি ইত্যাদি আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাংশ ভূতাত্ত্বিকভাবে এই বলয়ের বাইরে। যদিও অস্ট্রেলিয়াতেও অল্পবিস্তর কম্পনের হদিশ মেলে। তবে তা নিতান্তই ছোটখাটো।
‘জিওসায়েন্স অস্ট্রেলিয়া’ বলছে, এর আগে মেলবোর্নের ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে ‘এত বড়মাপের’ ভূমিকম্প দেখা গিয়েছিল ১৯০২ সালে। মাপ ছিল ৪.৫।
তবে অস্ট্রেলিয়ায় বড়সড় কম্পনও মাঝে-সাঝে হয়। যেমন ২০২১ সালেই ভিক্টোরিয়াতে ৫.৯ স্কেলের কম্পন অনুভূত হয়েছিল। যার উৎস ছিল প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। সাধারণত এই ধরণের কম্পনের কারণ পাতসংস্থান। অর্থাৎ, যাকে বলে প্লেট টেকটোনিক। অবিন্যস্ত প্লেট সঞ্চরণের ফলেই বেশিরভাগ কম্পন তৈরি হয়।
হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হলে ৫৫ শতাংশ বুঝতেই পারেন না কী হয়েছে, বলছে এইমসের সমীক্ষা