দ্য ওয়াল ব্যুরো : মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড়ে র্যাট হোল খনির মধ্যে জল জমে আছে ৭০ ফুট। এনডিআরএফের ডুবুরিরা নামতে পারে মাত্র ৪০ ফুট। বাকি জল পাম্প করে বার করা ছাড়া উপায় নেই। অত শক্তিশালী পাম্প দিতে পারেনি মেঘালয় সরকার। বৃহস্পতিবার জানা যায়, গুহার মধ্যে থেকে ভেসে আসছে পচা গন্ধ। আটকে পড়া খনিশ্রমিকদের মৃতদেহ থেকেই গন্ধ আসছে বলে ত্রাণকর্মীদের আশঙ্কা। এর মধ্যে ভারতেরই একটি ভারী যন্ত্রপাতির কোম্পানি মেঘালয় সরকারকে জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনে শক্তিশালী পাম্প পাঠিয়ে সাহায্য করতে পারে।
একটি সূত্রে খবর, রাষ্ট্রায়ত্ত কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের একটি টিম বৃহস্পতিবারই পৌঁছচ্ছে মেঘালয়ে। আসানসোল ও ধানবাদের খনি থেকে শক্তিশালী পাম্প নিয়ে যাচ্ছে তারা।
পাম্প নির্মাণকারী সংস্থা কির্লোস্কার ব্রাদার্স লিমিটেড গত জুলাই মাসে তাইল্যান্ডে পাম্প পাঠিয়ে গুহায় আটকে পড়া ১২ জন কিশোর ফুটবলারকে উদ্ধারে সাহায্য করেছিল। ওই সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মেঘালয়ে খনিতে আটকে পড়া শ্রমিকদের জন্য আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। আমরা সম্ভাব্য সবরকম সাহায্য করতে তৈরি। মেঘালয় সরকারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। আশা করি প্রত্যেক শ্রমিককেই নিরাপদে উদ্ধার করা যাবে।
গত ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জন শ্রমিক খনিতে কয়লা তুলতে নেমেছিলেন। এমন সময় কাছেই এক নদীতে বন্যা হয়ে খনিতে জল ঢুকতে থাকে। পরে পাশে আর এক পরিত্যক্ত খনি থেকেও সেখানে জল ঢুকেছে। পাম্প চালিয়ে খনিতে জলস্তর কমাতে না পারলে কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। ত্রাণকর্মীদের কাছে যে ছোট পাম্পগুলি রয়েছে, তা বিশেষ কাজে লাগছে না।
এনডিআরএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট কম্যান্ডার সন্তোষ কুমার সিং বলেন, গুহার ভিতর থেকে পচা গন্ধ আসছে বলেই ধরে নেওয়া যায় না যে, খনিশ্রমিকদের কেউ কেউ মারা গিয়েছেন। ওই গন্ধ মৃতদেহের নাও হতে পারে। খনিতে বেশ কয়েকদিন ধরে জল জমে আছে। জমা জল থেকেও দুর্গন্ধ আসা অসম্ভব নয়।
আটকে পড়া খনিশ্রমিকদের নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে রাজনীতি। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার সমালোচনা করে বিরোধী দল কংগ্রেস বলেছে, বিপন্ন মানুষের উদ্ধারে তিনি উদাসীনতা দেখাচ্ছেন। বুধবার কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইট করেছিলেন, খনিতে আটক শ্রমিকরা যখন একটুখানি বাতাসের জন্য ছটফট করছেন, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে ব্যস্ত।