দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষি আইন (farm laws), কৃষকদের সমস্যা নিয়ে সম্প্রতি কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (narendra modi) ‘উদ্ধত’ (arrogant)চরিত্রের পরিচয় পেয়ে ৫ মিনিটের মধ্যে তাঁর সঙ্গে বৈঠক ছেড়ে চলে আসেন বলে জানালেন মেঘালয়ের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক (meghalaya governor)। ঘটনাটি সম্পর্কে হরিয়ানার দাদরিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, খুবই উদ্ধত তিনি। যখন ওঁকে বললাম, আমাদের নিজেদের ৫০০ চাষি (farmers)মারা গিয়েছেন, উনি পাল্টা বলেন, আমার জন্য কি মরেছে? আমি বলি, হ্যাঁ, কেননা আপনিই তো সব, শাসক। যা-ই হোক, ওঁর সঙ্গে তুমুল কথাকাটাকাটি হয়। উনি আমায় অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। আমি তাই করি। অথচ কুকুর মরলেও শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী চিঠি লেখেন বলেও কটাক্ষ করেন মালিক। তিনি নানা ইস্যুতে, বিশেষ করে কৃষক ইস্যুতে মোদী সরকার, বিজেপির বিরুদ্ধে সরব বেশ কিছুদিন ধরেই। তাঁকে জম্মু ও কাশ্মীর, গোয়ায় রাজ্যপাল করে পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। শেষ তাঁকে পাঠানো হয় মেঘালয়ে। কেন্দ্র, শাসক দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলায় তাঁকে যে ইস্তফা দিতে বলা হতে পারে, কিন্তু তিনি ভীত নন বলেও বেশ কয়েকবার জানিয়েছেন মালিক।
২৬ নভেম্বর দিল্লি সীমান্তে কৃষকদের অবস্থান, বিক্ষোভের বর্ষপূর্তির কয়েকদিন আগে তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহার করে কেন্দ্র। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) মেকানিজমকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তুলতে রাজ্য, কেন্দ্রের প্রতিনিধি, কৃষক, বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গড়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী।
আন্দোলন চলাকালে কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলা তুলে নেওয়া ও ফসলের এমএসপিকে আইনি কাঠামো দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রকে সততার সঙ্গে এগোতে হবে বলেও অভিমত জানান মালিক। বলেন, কিন্তু সরকার যদি ভাবে, আন্দোলনের অবসান হয়েছে, তাহলে সেটা ঠিক হবে না। আন্দোলন সাময়িক স্থগিত রয়েছে। কৃষকদের প্রতি অবিচার হলে বা বাড়াবাড়ি হলে ফের আন্দোলন শুরু হবে।
তিনটি কৃষি আইন ফের আগামীদিনে পেশ করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়ে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বলেছেন, আমরা এক পা পিছিয়েছি, কিন্তু আবার এগোব কেননা কৃষকরাই ভারতের মেরুদণ্ড।